প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে দুই নেতার এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো একটি ‘ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী’ শান্তির পথ খুঁজে বের করা। এর আগে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রুস্তম উমেরভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মূলত ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি একটি বিতর্কিত ‘২৮-দফা শান্তি পরিকল্পনা’ সংশোধন করাই ছিল এই আলোচনার উদ্দেশ্য। মূল পরিকল্পনাটিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আকার সীমিত করা, ন্যাটোতে যোগদানের পথ রুদ্ধ করা এবং রাশিয়ার দাবি মেনে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এই রূপরেখাকে একটি ‘ধারণা’ বা খসড়া হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, এটি এখনও চূড়ান্ত করার বা ‘পরিমার্জন’ করার সুযোগ রয়েছে। ফ্লোরিডার বৈঠকে উভয় পক্ষই পরিকল্পনাটি সংশোধনে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ শুরু থেকেই এই মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার কিছু অংশের বিরোধিতা করে আসছেন, যা রাশিয়ার প্রতি বেশি নমনীয় বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি ইউক্রেনের জন্য কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ‘সুদৃঢ়’ নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর জোর দিয়েছেন। প্যারিসের বৈঠকে তিনি একটি ‘রি-অ্যাসিউরেন্স ফোর্স’ বা ‘আস্থাবর্ধক বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থল, নৌ ও আকাশপথে একটি আন্তর্জাতিক জোটের সেনা মোতায়েন করা হবে। এটি ভবিষ্যতে রাশিয়ার যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
এদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার বিকেলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উইটকফের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কারণ অভিযোগ রয়েছে যে তিনি পুতিনের উপদেষ্টাকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাটি কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে ওয়াশিংটন ও মস্কো উভয়ই এই অভিযোগকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্যারিস থেকে মস্কো-চলমান এই কূটনৈতিক ম্যারাথন ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।