বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় গত পাঁচ বছরে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা মহাদেশটির সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইডিএ-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ এই ব্যয়ের পরিমাণ ৩৯২ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছাবে। অথচ ২০২০ সালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৯৮ বিলিয়ন ইউরো। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে নামমাত্র হিসাবে এই বৃদ্ধি ৯৮ শতাংশ এবং মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করার পরেও তা ৬৩ শতাংশের বেশি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের অনিশ্চয়তা এই ব্যয়ের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সাথে কোনো শান্তি চুক্তি হলে তা যদি মস্কোর পক্ষে যায়, তবে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো। প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তালিকায় বর্তমানে সবার ওপরে রয়েছে জার্মানি। ২০২৪ সালে দেশটি একাই ৯০.৬ বিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে, যা ইইউ-এর মোট ব্যয়ের ২৬.৪ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফ্রান্স ব্যয় করেছে ৫৯.৬ বিলিয়ন ইউরো। ইতালি ও পোল্যান্ড যথাক্রমে ৩২.৭ এবং ৩১.৯ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। পঞ্চম স্থানে থাকা স্পেন ২২.৭ বিলিয়ন ইউরো খরচ করলেও, দেশটির জিডিপির তুলনায় এই বরাদ্দ নিয়ে ন্যাটো জোটে অসন্তোষ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি না মানলে স্পেনকে ন্যাটো থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপের মাত্র পাঁচটি দেশ-জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেন-সম্মিলিতভাবে ইইউ-এর মোট প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ বহন করছে। অন্যদিকে, ইইউ-এর বাইরে থাকা ন্যাটোর শক্তিশালী সদস্য যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ইউরো এবং তুরস্ক ২৪.৪ বিলিয়ন ইউরো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করেছে। মাথাপিছু ব্যয়ের দিক থেকে ডেনমার্ক শীর্ষে রয়েছে, যেখানে নাগরিকপ্রতি খরচ ১,৫৪০ ইউরো। এরপরেই রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করার পর থেকেই ইউরোপের দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে শুরু করে, তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর এটি নতুন মোড় নেয়। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে ৩.৫ শতাংশ সরাসরি সামরিক খাতে এবং বাকিটা নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।