এমতাবস্থায় ব্রাসেলসে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতভেদ এখনো স্পষ্ট। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড সাংবাদিকদের বলেন, যতক্ষণ না পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে, ততক্ষণ ধরে নিতে হবে যে রাশিয়া শান্তি চায় না।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দফার একটি পরিকল্পনার ওপর জোর দেন-প্রথমত ইউক্রেনকে সহায়তা বৃদ্ধি করা এবং দ্বিতীয়ত রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আয়ের ওপর আঘাত হেনে তাদের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে পুতিনের বৈঠকের ঠিক পরপরই ন্যাটোর এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে প্রণীত একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়া ফাঁস হওয়ার পর ইউরোপজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়, যেখানে রাশিয়ার প্রতি অত্যধিক নমনীয়তা প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় মিত্ররা এই প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। যদিও ক্রেমলিন আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, কিন্তু ইউরোপীয় মন্ত্রীদের মতে, পুতিন তাঁর পুরনো সময়ক্ষেপণ কৌশলেই অটল রয়েছেন এবং কোনো ছাড় দেওয়ার লক্ষণ দেখাননি।
লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুটিস বুদ্রিস মন্তব্য করেছেন যে, গত ছয় মাসে রাশিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তিতে মোটেও আগ্রহী নয়। ফিনল্যান্ড এবং এস্তোনিয়ার প্রতিনিধিরাও একই সুরে কথা বলেছেন। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গাস সাহকনা স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের চিন্তা ভুল; বরং রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করাই একমাত্র পথ।
তিনি জব্দ করা রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউরো সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনের জন্য একটি ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ বা রিপারেশন লোন চালুর প্রস্তাব দেন। তবে এই আর্থিক পরিকল্পনায় বেলজিয়ামের প্রবল আপত্তি রয়েছে, কারণ জব্দকৃত সম্পদের বড় অংশই তাদের কাছে গচ্ছিত। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভট সতর্ক করে বলেছেন, এটি অর্থনৈতিক ও আইনগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপর্যয়কর হতে পারে।
তবুও এস্তোনিয়াসহ ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো মনে করে, পুতিন বা যুক্তরাষ্ট্র কারোরই ইউরোপের হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই; ইউরোপকে নিজের দরকষাকষির ক্ষমতা বা ‘লিভারেজ’ তৈরি করতে হবে। ইউরোপীয় কমিশন ইউক্রেনের অর্থায়নের জন্য আইনি প্রস্তাবনা পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে এই বিতর্কিত ঋণ প্রস্তাবটিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।