রাশিয়ার প্রায় ১০০টি ড্রোনের এই অতর্কিত হামলা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। হামলার পর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মধ্য ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে। সেখানে পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন দিনিপ্রো শহরের মেয়র বরিস ফিলাতভ। তিনি জানান, প্রযুক্তিগতভাবে দিনিপ্রো বর্তমানে দেশের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
শহরের হাসপাতালগুলো জেনারেটরের মাধ্যমে কোনোমতে সচল রাখা হয়েছে এবং জরুরি পরিষেবাগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল অপারেটরদের বেস স্টেশনগুলো এখন জরুরি ব্যাটারির ওপর নির্ভর করে চলছে, ফলে সাধারণ মানুষকে মোবাইল যোগাযোগ সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং মেট্রোরেলসহ গণপরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়াতেও পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। বুধবার রাত ১০টার দিকে পুরো অঞ্চলটি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ‘টোটাল ব্ল্যাকআউট’ বা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা। আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টার পর থেকে বিদ্যুৎ ও হিটিং ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করলেও আতঙ্ক কাটছে না। দেশটির বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিরামহীনভাবে মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে ঘন ঘন বিমান হামলার সতর্কতার কারণে কর্মীদের বারবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হচ্ছে, যা মেরামত কাজকে বিলম্বিত করছে। ইউক্রেনের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন হাড়কাঁপানো শীতে বিদ্যুৎ ও হিটিং ব্যবস্থার এই বিপর্যয় সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার ‘ইচ্ছাকৃত নির্যাতন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শীতকালে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ও উষ্ণতা থেকে বঞ্চিত করার পেছনে কোনো সামরিক যুক্তি থাকতে পারে না। এটি ইউক্রেনের মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা মাত্র। তিনি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন শান্তি আলোচনার অজুহাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ ধীরগতি না করা হয়।