শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি স্পেন-আর্জেন্টিনা, গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প ও মামদানি

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি স্পেন-আর্জেন্টিনা, গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প ও মামদানি
ছবি : Collected

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনার পারদ এখন তুঙ্গে। শিরোপা নির্ধারণী এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

 

আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। রাজনীতিতে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর এই দুই প্রভাবশালী নেতার একই স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার বিষয়টি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

 

তবে মেয়রের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, মেগা ফাইনালে এই দুই নেতার আলাদা করে সাক্ষাতের কোনো পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা নেই। এর আগে গত মাসে বাস্কেটবল বা এনবিএ ফাইনালে এই দুই নেতাকে একই স্টেডিয়ামে দেখা গিয়েছিল।

 

ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ বুলেটপ্রুফ বিলাসবহুল বক্সে বসে খেলা উপভোগ করেছিলেন। তবে স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক নিক্স দলের সমর্থকরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দুয়ো ধ্বনি দিয়েছিলেন।

 

শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সে দিন স্টেডিয়ামের বাইরের উন্মুক্ত প্রদর্শনী বা ওয়াচ পার্টি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এমনকি সাধারণ দর্শকদেরও নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে মাঠে প্রবেশ করতে হয়েছিল।

 

অন্যদিকে, সেই একই ম্যাচে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ছিলেন অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে। তিনি একেবারেই সাধারণ দর্শকদের মতো গ্যালারির ওপরের সারিতে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেছিলেন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও তাদের এই ভিন্নধর্মী উপস্থিতির দেখা মিলবে।

 

ফুটবল বিশ্বকাপের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো গত মাসেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছিলেন যে, এবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে শিরোপা তুলে দেবেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

ফিফা প্রধান জানিয়েছিলেন যে, তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করবেন এবং বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন। তবে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ফিফা সভাপতির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বেশ সমালোচনার জন্ম হয়েছিল।

 

যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার জন্য ইনফ্যান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ফিফা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে পেরেছিলেন বালোগান।

 

যদিও সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছিল, তবে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ফিফার তা মেনে নেওয়ার বিষয়টি সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকরা মোটেও ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর মতো শীর্ষস্থানীয় বিশ্বনেতাদের উপস্থিতির কারণে রোববারের এই মেগা ফাইনাল ম্যাচটিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্তরের বিশেষ ইভেন্ট বা ‘লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মানদণ্ডে এর অর্থ হলো, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আয়োজন। এর সুরক্ষায় আকাশসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং বিশেষ গোয়েন্দা দল ও বিস্ফোরক শনাক্তকারী বিশেষায়িত কুকুরসহ দেশজুড়ে ব্যাপক ফেডারেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে।

 

চলতি বিশ্বকাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এখনো গ্যালারিতে দেখা না গেলেও মেয়র জোহরান মামদানির গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন। নিজেকে একটি ইংলিশ ক্লাবের কট্টর সমর্থক ও আপাদমস্তক ফুটবলপ্রেমী হিসেবে দাবি করা এই রাজনীতিক মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগেও ব্রুকলিনের মাঠে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন।

 

এবারের বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি তার রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগগুলোকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জন্য পার্কগুলো রাতে খোলা রেখে তিনি খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন এবং একটি ফুটবল ও আবহাওয়া বিষয়ক অনুষ্ঠানও সঞ্চালনা করেছেন।

 

তার একান্ত উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশন ফুটবল ভক্তদের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যের বিশেষ জার্সি সরবরাহ করেছিল, যা মুহূর্তের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি ফিফাকে রাজি করিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য তিনি সীমিত মূল্যের এক হাজার টিকিটেরও ব্যবস্থা করেছিলেন।

 

সমাজের প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ ভাগাভাগি করতে মেক্সিকান রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র, এমনকি শহরের একটি কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে বসেও খেলা উপভোগ করতে দেখা গেছে এই জনবান্ধব মেয়রকে।

 

ফাইনালে এই দুই নেতা কে কোন দলকে সমর্থন করছেন, তা নিয়ে ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। সম্প্রতি স্পেনের সমালোচনা করায় ট্রাম্প এবার আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি তার জানা নেই।

 

তবে সম্প্রতি নিউইয়র্কে ফিফার একটি বিশেষ আয়োজনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির অনবদ্য পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। সেখানে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত আলাপও হয়।

 

ট্রাম্প তাকে অভিবাদন জানিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন যে, তারা পুনরায় ইতিহাস সৃষ্টি করতে প্রস্তুত কি না। অন্যদিকে, মেয়র মামদানির পছন্দের দল মরক্কো ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। ফাইনালে তিনি কাকে সমর্থন করছেন জানতে চাইলে তিনি রসিকতা করে বলেন যে, তিনি যার পক্ষ নিচ্ছেন, সেই দলই হেরে যাচ্ছে।

 

এর আগে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি সেটিকে প্রকাশ্য ডাকাতির সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। সব মিলিয়ে রোববারের এই মেগা ফাইনাল শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, গ্যালারির রাজনৈতিক ভিআইপি উপস্থিতির কারণেও এক অনন্য মাত্রা পেতে যাচ্ছে।