বিবৃতিতে বলা হয়, "ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যদি অবিলম্বে, নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন জ্বালানি প্রবেশের অনুমতি না দেয়, তবে এর ফলে সৃষ্ট মৃত্যুহার খুব শীঘ্রই তীব্রভাবে বাড়তে পারে। এই সংকটের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালকের কথায়। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, "সকাল পর্যন্ত চলার মতো জ্বালানিও আমাদের কাছে নেই। জেনারেটর না চললে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (ICU), ব্লাড ব্যাংক, নার্সারি এবং অক্সিজেন স্টেশনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়বে। রোগীরা অনিবার্য মৃত্যুর মুখে পড়বে। শুধু হাসপাতালই নয়, পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মেনিনজাইটিসের মতো মারাত্মক রোগের প্রকোপ বাড়ছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (WFP) কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, জ্বালানির অভাবে তাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে খাদ্যের জন্য মানুষের হাহাকার বাড়ছে, অন্যদিকে ত্রাণকর্মীরা প্রায়শই উভয় পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে আটকা পড়ছেন। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাস থেকে ইসরায়েল গাজার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিছু খাদ্য সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, গত কয়েক মাস ধরে কোনো জ্বালানি উপত্যকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এই মানবিক সংকটের মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারও ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র// আল জাজিরা