আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচন কেবল দেশটির নতুন সরকারই নির্ধারণ করবে না, বরং তা নেতানিয়াহুর চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত পরিণতিও নির্ধারণ করে দিতে পারে।
দুর্নীতি সংক্রান্ত আইনি লড়াই এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে তিনি এখন দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। নেতানিয়াহুর এই নির্বাচনী পরীক্ষার প্রেক্ষাপটে রয়েছে এক উত্তাল রাজনৈতিক অধ্যায়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্ররোচিত করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তপ্ত পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
একই সঙ্গে উত্তর সীমান্তে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত নিরসনে ব্যর্থতা তাঁর প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। এই বহুমুখী যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু বর্তমানে এক জটিল কূটনৈতিক উভয়সংকটে আটকা পড়েছেন।
একদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য মার্কিন প্রশাসন তাঁর ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশ ইরান ও তার প্রক্সি বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অটল।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের সাথে অভ্যন্তরীণ জনমতের এই বিপরীতমুখী স্রোত সামলাতে প্রধানমন্ত্রী হিমশিম খাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান গণঅসন্তোষের আরেকটি বড় কারণ হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন নজিরবিহীন হামলার পূর্বাপর গোয়েন্দা ও কৌশলগত ব্যর্থতা।
এই হামলার দায়ভার গ্রহণ এবং এর কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর অস্বীকৃতি সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলো তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে চরম সংকটাপন্ন করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, অক্টোবরের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের টিকে থাকার শেষ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।