রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেকোনো আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে ইরান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০১:১৬ এএম

যেকোনো আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে ইরান
ছবি : Collected

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় খাতামুল আম্বিয়া সদরদপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল পাইলট আলী আবদুল্লাহি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের লোভ, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতার জবাব অত্যন্ত বিধ্বংসী শক্তির মাধ্যমে প্রদান করবে।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এমন জোরালো বক্তব্য বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং যেকোনো আগ্রাসী অপতৎপরতা রুখে দিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় মেজর জেনারেল পাইলট আলী আবদুল্লাহি ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর গভীরভাবে আলোকপাত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদ নেতা, ইসলামী ইরান এবং প্রতিরোধ অক্ষের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

তাঁদের প্রদর্শিত উজ্জ্বল ও আদর্শিক পথ অনুসরণ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা ইসলামী বিপ্লবের প্রজ্ঞাবান নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীর সঙ্গে নতুন করে অঙ্গীকারাবদ্ধ হচ্ছেন।

 

বিপ্লবের মূল আদর্শ, পবিত্র ঐক্য এবং জাতীয় সংহতি রক্ষায় সর্বোচ্চ নেতার সুস্পষ্ট ও আলোকিত দিকনির্দেশনাকেই সশস্ত্র বাহিনীর সর্বপ্রধান মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

 

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি মেজর জেনারেল আবদুল্লাহির বক্তব্যে বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের আপামর জনসাধারণের সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণ, তাদের ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

 

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের সাধারণ জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী এবং রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি আরও সুদৃঢ় করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ মেলবন্ধন যত বেশি শক্তিশালী হবে, বহিঃশত্রুর যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা ততটাই সহজ হবে এবং এজন্য তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রস্তুত রয়েছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি ও অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়ে মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রিয় নেতা ও সর্বাধিনায়কের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বদ্ধপরিকর।

 

তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে 'মহান শয়তান' ও 'প্রতারক' হিসেবে আখ্যায়িত করে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাদের যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদী আচরণ কিংবা দমননীতির সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। যদি শত্রুপক্ষ কোনো ধরনের বর্বরতা বা আগ্রাসন চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ঈমানদার, অকুতোভয় এবং অত্যন্ত শক্তিশালী যোদ্ধারা তার অত্যন্ত দৃঢ় ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে।

 

এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরও বলেন যে, সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের জন্য শত্রুদের ওপর এমন এক চরম মূল্য চাপিয়ে দেওয়া হবে, যা অতীতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ হবে।

 

দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরে এই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি কেবল যুদ্ধ মোকাবিলার জন্যই নয়, বরং এটি দেশের টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

 

দক্ষিণ থেকে উত্তর এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম-সমগ্র ইরানের প্রতিটি প্রান্তে বসবাসরত সাহসী জনগণের জন্য এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এক অভেদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে। একই সঙ্গে, দেশের সীমানা সুরক্ষিত থাকার কারণেই রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অত্যন্ত নির্বিঘ্নে জনগণের সার্বিক কল্যাণ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির জন্য কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ পাচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।

 

সামরিক ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রুরা এখন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে বলে মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি সতর্ক করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শত্রুপক্ষ এখন দেশের সাধারণ জনগণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ ও অবিশ্বাস সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

 

কারণ শত্রুরা খুব ভালো করেই অনুধাবন করতে পেরেছে যে, তাদের যেকোনো চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত করতে পারে কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ ইস্পাতকঠিন ঐক্য। তাই এই চক্রান্ত নস্যাৎ করা প্রতিটি নাগরিকের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

পরিশেষে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর অশেষ সাহায্য, ইমাম মাহদির অনুগ্রহ এবং সর্বোচ্চ নেতার সঠিক দিকনির্দেশনায় তাঁরা অবিচল রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের যে অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি দেখা গেছে, তা এক অনন্য জাতীয় সংহতির জন্ম দিয়েছে।

 

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে এই ঐতিহাসিক ঐক্য ও সংহতি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যখন নানামুখী রাজনৈতিক ও সামরিক মেরুকরণ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের এই শীর্ষ কমান্ডারের এমন বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

এটি কেবল একটি সামরিক সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেওয়া ইরানের একটি স্পষ্ট বার্তা যে, তারা তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আদর্শিক অবস্থান থেকে কোনোভাবেই পিছু হটবে না।

 

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে পুঁজি করে যেকোনো বাহ্যিক চাপ মোকাবিলার যে রণকৌশল ইরান গ্রহণ করেছে, তা মেজর জেনারেল আবদুল্লাহির এই সুচিন্তিত ও পেশাদার বক্তব্যের মাধ্যমে আরও একবার অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বিশ্ববাসীর সামনে উঠে এসেছে।

 

- পার্সটুডে