শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা হলে ট্রাম্পের হাত কেটে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শীর্ষ জেনারেল

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

ইরানে হামলা হলে ট্রাম্পের হাত কেটে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শীর্ষ জেনারেল
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এবার এক অভূতপূর্ব ও চরম বিপজ্জনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সামরিক হামলার কঠোর ও রক্তক্ষয়ী জবাব দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

 

অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক ভাষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুমকি দিয়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক শীর্ষস্থানীয় জেনারেল জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে ট্রাম্পের হাত ও আঙুল কেটে নেওয়া হবে।

 

একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হামলার ঘটনা ঘটলে ইরান চলমান সমস্ত যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সরে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে ইরানের অত্যন্ত প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারণী ফোরাম 'এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল'-এর জ্যেষ্ঠ সদস্য জেনারেল মোহসেন রেজায়ি গত বৃহস্পতিবার এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই চরম ও অভূতপূর্ব হুমকি প্রদান করেন।

 

প্রকাশ্য সেই ভাষণে তিনি মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্যের সরাসরি জবাব দিতে গিয়ে জেনারেল মোহসেন রেজায়ি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘ট্রাম্প অহংকার করে বলেছেন যে, তার হাত সব সময়ই অস্ত্রের ট্রিগারের ওপর রাখা আছে।

 

যদি সেই ট্রিগার থেকে ইরানের দিকে কোনো গুলি ধেয়ে আসে, তবে আমরা তার ওই হাত এবং তার আঙুল সমূলে কেটে দেব।’ তার এই বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সব গণমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ফলাও করে প্রচার করা হয়, যা দেশের ভেতরে এক তীব্র জাতীয়তাবাদী উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে।

 

জেনারেল রেজায়ি কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক ভয়াবহ পরিণতির সুস্পষ্ট রূপরেখাও তুলে ধরেছেন।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইরানের পবিত্র মাটিতে মার্কিন বাহিনীর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা আকাশপথে হামলার ঘটনা ঘটলে, তার পরিণতি কেবল ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

 

বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কৌশলগত কারণে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর একযোগে সর্বাত্মক ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের মিত্র আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই হুঁশিয়ারি মূলত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের জন্য এক বিশাল ও অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক ঝুঁকির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। ইরানি এই শীর্ষ জেনারেলের এমন চরম আক্রমণাত্মক ও সংঘাতময় মন্তব্য ঠিক এমন এক সংকটময় সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন উভয় দেশের মধ্যকার উত্তেজনা ইতিমধ্যে এক বিস্ফোরক অবস্থায় পৌঁছেছে।

 

আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের সঙ্গে এই ক্রমবর্ধমান ও লাগামহীন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অন্তত একটি অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী নতুন করে পুনঃমোতায়েন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

 

মার্কিন নৌবাহিনীর এই কৌশলগত সামরিক উপস্থিতির মূল উদ্দেশ্য হলো ওই অঞ্চলে নিজেদের মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং ইরানের ওপর সর্বোচ্চ সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগ করা। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কিন রণতরীর এই নতুন করে মোতায়েন হওয়ার খবর পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে বরং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

সব মিলিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার এই ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় সামরিক চাপ এবং রণতরী মোতায়েনের মতো উসকানিমূলক পদক্ষেপ, অন্যদিকে নিজেদের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের শীর্ষ জেনারেলদের এমন আক্রমণাত্মক ও প্রতিশোধপরায়ণ হুঁশিয়ারি-এই দুইয়ের প্রভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

 

কূটনৈতিক সমাধানের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসায়, যেকোনো ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক উসকানি পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জোরালো আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

 

ফক্স নিউজ