শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শত্রুর মোকাবিলায় ইরানি জনগণের দৃঢ়তার চূড়ান্ত প্রতীক ‘জানফাদা’: বাসিজ প্রধান

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

শত্রুর মোকাবিলায় ইরানি জনগণের দৃঢ়তার চূড়ান্ত প্রতীক ‘জানফাদা’: বাসিজ প্রধান
ছবি : Collected

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী শাখা বাসিজ সংস্থার প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন হোসেইন তায়েব বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ‘জানফাদায়ান’ বা আত্মত্যাগী জনতা বহির্বিশ্বের শত্রুদের জন্য এক মূর্তিমান দুঃস্বপ্ন।

 

তিনি এই সুবিশাল ও সুশৃঙ্খল জনশক্তিকে কেবল একটি সামরিক বাহিনী হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের অটুট দৃঢ়তা, প্রগাঢ় দেশপ্রেম ও অসীম সহনশীলতার চূড়ান্ত প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া ৩ লাখ ১৩ হাজার সদস্যের সুবিশাল ও ঐতিহাসিক ‘জানফাদায়ান-ই-ইরান’ মহড়ায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নিবিড় পর্যবেক্ষণে এবং বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাসিজ প্রধানের এই সুদৃঢ় বক্তব্যকে একটি অত্যন্ত কঠোর ও সুস্পষ্ট জাতীয় প্রতিরক্ষামূলক বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ও সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে পার্স টুডে তাদের এক বিস্তারিত ও বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই বিপুল সামরিক ও বেসামরিক সমাবেশের মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো মূল্যে জাতীয় প্রতিরক্ষাকে আরও সুসংহত, আধুনিক ও অপ্রতিরোধ্য করে তোলা।

 

বিশাল এই জনসমুদ্রের উদ্দেশে দেওয়া এক অনুপ্রেরণাদায়ী ভাষণে বাসিজ প্রধান অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ‘জানফাদা’ আন্দোলন বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত ও জাতীয় প্রতিরক্ষার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ গণআন্দোলনগুলোর মধ্যে অন্যতম।

 

তাঁর মতে, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের মহান মানসিকতা একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক ও সামরিক কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকাণ্ডের রূপরেখা নির্ধারণে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে, ঠিক অন্যদিকে তেমনি এটি যেকোনো আগ্রাসী ও আধিপত্যকামী শত্রুর মনে গভীর ভীতি ও শঙ্কা সঞ্চার করে।

 

তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, বাইরের যেকোনো উসকানির মুখে জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ ও সুদৃঢ় প্রতিরোধই যেকোনো সংকটকালে সমগ্র জাতির চূড়ান্ত বিজয়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং প্রধানতম রক্ষাকবচ।

 

চলমান এই বিশাল মহড়া ও সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে হোসেইন তায়েব বলেন, রাজধানী বৃহত্তর তেহরানজুড়ে আয়োজিত এই বিশাল কার্যক্রমে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বপ্রণোদিত অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে ইরানের জাতীয় ঐক্যের এক অভাবনীয় ও অনন্য নিদর্শন।

 

এই বিপুল সংখ্যক নিবেদিতপ্রাণ জনশক্তিকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন সামরিক ব্যাটালিয়ন ও বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা ইউনিটে বিভক্ত করা হয়েছে। সামরিক কাঠামোর নিয়ম অনুযায়ী ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের কঠোর শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ-প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

বর্তমানে এই আত্মত্যাগী সদস্যদের সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি মূল স্তম্ভ-অত্যাধুনিক স্থলবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন শাখায় পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সেখানে তাদের পরবর্তী পর্যায়ের উন্নত সামরিক, কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

 

এই সুবিশাল আয়োজনের প্রধান ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের আকস্মিক সামরিক আগ্রাসন, চোরাগোপ্তা হামলা বা জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আসা যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি স্তরের নাগরিককে সর্বোচ্চ প্রস্তুত করে একটি সর্বাত্মক, দুর্ভেদ্য ও সমন্বিত জাতীয় প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা।

 

বক্তব্যের একেবারে শেষাংশে এসে বাসিজ সংস্থার এই শীর্ষ কর্মকর্তা চলমান এই গণআন্দোলনের আদর্শিক, সামাজিক ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় গুরুত্বের ওপর অত্যন্ত গভীরভাবে আলোকপাত করেন।

 

তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, জানফাদা কেবল একটি গতানুগতিক সামরিক মহড়া বা শক্তি প্রদর্শনের সশস্ত্র সমাবেশ নয়; বরং এটি দেশের সীমানা রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তায় সাধারণ মানুষের সরাসরি, স্বতঃস্ফূর্ত ও অত্যন্ত কার্যকর অংশগ্রহণের এক জীবন্ত ও জ্বলন্ত উদাহরণ।

 

এটি গোটা বিশ্বের সামনে ইরানের ক্রমবর্ধমান জাতীয় শক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা ও সামরিক সক্ষমতার এক সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ, যা যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে বিনা দ্বিধায় লড়াই করার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করে।

 

একই সঙ্গে, হোসেইন তায়েব তাঁর দূরদর্শী চিন্তাধারার প্রকাশ ঘটিয়ে বলেন, শুধুমাত্র যুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষাই এই বাহিনীর একমাত্র কাজ নয়। বরং যুদ্ধোত্তর দেশ গঠন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠন এবং একটি উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ সভ্যতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও এই আত্মত্যাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ জনতা একটি অপরিহার্য চালিকাশক্তি হিসেবে সামনের দিনগুলোতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

 

- পার্সটুডে