বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র এখন আকাশ অবরোধের কৌশল নিয়েছে: ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র এখন আকাশ অবরোধের কৌশল নিয়েছে: ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, ক্রমবিকাশমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাঙ্ক্ষিত কোনো সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এখন ইরানের বিরুদ্ধে আকাশপথ অবরোধের নতুন কৌশল অবলম্বন করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ী।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় যে, তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের নিকট কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাত কিংবা অর্থবহ কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে চরম এক কৌশলগত সংকটে পড়ে গেছেন। ইরানের রাজধানী তেহরানে আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফার নেতৃত্বে আগত এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য পেশ করেন ইরানের শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজায়ী।

 

এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ ককাস অঞ্চলকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমুখী দিক নিয়ে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা সম্পন্ন হয়।

 

অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ এবং বিমান হামলার তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানান।

 

তিনি বলেন, ইরানের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর পরিচালিত যেকোনো ধরনের সশস্ত্র আক্রমণ সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের নগ্ন লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক সনদের পরিপন্থী।

 

তিনি বেশ জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বহিরাগত সামরিক শক্তিগুলোর অন্যায় আক্রমণ ও জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতময় পরিস্থিতির মুখেও ইরান সর্বাত্মক ও শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে সফলভাবে নিজেদের ভূখণ্ড এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

 

রেজায়ীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি সামরিক আক্রমণ চালিয়ে তেহরানকে কোনোরূপ নতজানু করতে না পেরে ব্যর্থ হয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা ইরানের আন্তর্জাতিক আকাশপথ ব্যবহার ও বিমান যোগাযোগের ওপর নানাভাবে বিধিনিষেধ আরোপের দিকে ঝুঁকছে।

 

মার্কিন প্রশাসনের এই আকাশ অবরোধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি মূলত ওয়াশিংটনের গভীর সামরিক অসহায়ত্ব, সিদ্ধান্তহীনতা এবং কৌশলগত সীমাবদ্ধতারই এক সুস্পষ্ট প্রশাসনিক ও সামরিক বহিঃপ্রকাশ।

 

ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও প্রয়োগে যে অভাবনীয় দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে, তা বহিরাগত পরাশক্তিগুলোর সামরিক কৌশল এবং যুদ্ধ পরিচালনার সীমাবদ্ধতাকে বিশ্বমঞ্চে সুস্পষ্টভাবে উন্মোচিত করেছে।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কৌশলগত অবস্থান ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তহীনতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জেনারেল রেজায়ী অভিমত ব্যক্ত করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এমন এক কঠিন কৌশলগত দোলাচল ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে আটকা পড়েছেন, যা থেকে বেরিয়ে আসা তার প্রশাসনের পক্ষে ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে।

 

বর্তমানে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন না পারছে ইরানের সঙ্গে কোনো সম্মানজনক, স্থায়ী ও ফলপ্রসূ আলোচনা বা কূটনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করতে, আর না পারছে সামরিক ময়দানে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের দিকে অগ্রসর হতে।

 

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির নানাবিধ সামরিক কাঠামোর কারণে ওয়াশিংটন বর্তমানে গভীর দ্বিধা ও চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের ঐতিহাসিক ঘটনাক্রম স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইরানের এই প্রবীণ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব ইতিহাসের অতীতে তাকালে স্পষ্ট দেখা যায় যে যুগে যুগে বহু ক্ষমতাধর, সাম্রাজ্যবাদী ও বিদেশি পরাশক্তি এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে এসেছিল এবং শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে এই অঞ্চল ত্যাগ করেছে।

 

তবে বহিরাগত শক্তিগুলোর এই ধরনের আসা-যাওয়ার মধ্যেও ইরানসহ এই অঞ্চলের সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো নিজেদের শতাব্দী প্রাচীন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাধীন অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে হাজার বছর ধরে নিজ ভূখণ্ডে টিকে রয়েছে এবং ভবিষ্যতের সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সগৌরবে টিকে থাকবে।

 

অন্যদিকে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফা ইরানের প্রতি তার দেশের সুদৃঢ় আস্থা, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইরানকে আজারবাইজানের অন্যতম বিশ্বস্ত ও ঐতিহাসিক বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের চক্রান্তমূলক জল্পনা-কল্পনা-যেখানে দাবি করা হয়েছিল আজারবাইজানের সামরিক বা বেসামরিক ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো তৃতীয় শত্রুভাবাপন্ন পরাশক্তি অভিযান পরিচালনা করতে পারে-তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও রটনা বলে দৃঢ়ভাবে বাতিল করে দেন শাহিন মুস্তাফা।

 

আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী তেহরানের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের আশ্বস্ত করে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন যে, আজারবাইজানের সীমানা বা আকাশসীমা কখনো কোনো অবস্থাতেই নিকটতম কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।

 

আজারবাইজানের এই পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন অবস্থান দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার ভৌগোলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

 

সামরিক ও রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার ঝুলে থাকা ও অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে পূর্বে সম্মত হওয়া ঐতিহাসিক ‘আরাস করিডোর’ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার ওপর উভয় পক্ষ পুনরায় দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।

 

এই আরাস করিডোর মূলত আজারবাইজানের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তার ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নাখচিভানকে ইরানের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে সরাসরি সংযুক্ত করার একটি অত্যন্ত কৌশলগত আঞ্চলিক ট্রানজিট ও পরিবহন অবকাঠামো।

 

এই আন্তর্জাতিক করিডোরটি পুরোদমে চালু হলে ককাস অঞ্চল থেকে শুরু করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এক নতুন বৈপ্লবিক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

 

এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যবর্তী নদীগুলোর পানি সম্পদ বণ্টন ও সুষম ব্যবহার, যৌথ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, শক্তি ও জ্বালানি খাতের বাণিজ্যিক বিকাশ এবং সীমান্ত সংলগ্ন বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণের মতো অত্যন্ত জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধি করার ব্যাপারে উভয় প্রতিনিধিদল ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

 

দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘ ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অপরাধমূলক তৎপরতা নস্যাৎ করার বিষয়েও বৈঠকে যৌথ কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

ককাস ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার সুযোগ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র বা অবৈধ চোরাচালানকারীরা যাতে সীমান্ত এলাকায় কোনো বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে উভয় রাষ্ট্রই সমন্বিত পদক্ষেপে কাজ করার বিষয়ে গভীর ঐকমত্য পোষণ করেছে।

 

সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক পণ্যের অবৈধ পাচার এবং আন্তর্জাতিক ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য চোরাচালান কার্যক্রম সফলভাবে প্রতিরোধ করতে যৌথ টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এই পদক্ষেপে তেহরান ও বাকুর মধ্যে ভৌগোলিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্যিক প্রবাহ অনেক বেশি সুরক্ষিত ও বাধাগ্রস্ততামুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে থাকা সত্ত্বেও ইরানের এই প্রতিবেশী নির্ভর কূটনৈতিক কৌশল বা ‘প্রতিবেশী নীতি’ অত্যন্ত দূরদর্শী ও সুফলদায়ক ভূমিকা রাখছে।

 

দক্ষিণ ককাস অঞ্চলে আজারবাইজানের মতো আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী প্রতিవేశীর সঙ্গে একটি সুষম, বিশ্বাসযোগ্য এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধরে রাখা তেহরানের জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য।

 

ভৌগোলিক বাণিজ্য পথগুলোকে সচল রাখা, বিকল্প ট্রানজিট সুবিধা তৈরি করা এবং উত্তর সীমান্ত অঞ্চলকে নিরাপদ রাখার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে, বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া অর্থনৈতিক বা বিমান অবরোধের মাধ্যমে তাকে মূলধারার আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।

 

অপরদিকে, আজারবাইজানের দিক থেকেও ইরানের ভৌগোলিক গুরুত্ব অনুধাবন করে এই সুসংহত অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তিগুলো বজায় রাখা ককাস অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থেই অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

সর্বোপরি, ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ী এবং আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফার এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাটি মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ ককাস অঞ্চলের বর্তমান সংবেদনশীল ভৌগোলিক রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুদূরপ্রসারী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

 

একদিকে মার্কিন ওয়াশিংটন প্রশাসনের নীতিহীন সিদ্ধান্তহীনতা ও আকাশপথের বিধিনিষেধের কড়া সমালোচনা করে ইরান যেমন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজেদের অবিচল প্রতিরক্ষা নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে আজারবাইজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিవేశীর সঙ্গে অবকাঠামো, আঞ্চলিক পরিবহন, বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

 

বহিরাগত পরাশক্তির সামরিক হুমকি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আকাশ অবরোধের মতো যেকোনো প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে এই অঞ্চলের স্বাধীন দেশগুলো যে নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে একসঙ্গে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা রাখে, অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি তার এক অনন্য ও বাস্তব উদাহরণ।

 

- পার্সটুডে