বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের অধিকার না মানলে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

ইরানের অধিকার না মানলে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ
ছবি : Collected

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক ভূ-অর্থনীতির অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল সমীকরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা যেন এক নতুন ও অভূতপূর্ব মাত্রা লাভ করেছে।

 

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অত্যন্ত দাম্ভিকতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের অর্থনীতি তাসের ঘরের মতো সম্পূর্ণ ধসে পড়বে।

 

মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই উসকানিমূলক ও চরমপন্থি মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে এই মন্তব্যের কড়া, তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণাত্মক জবাব দিতে মোটেও কালক্ষেপণ করেনি তেহরান।

 

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই ভিত্তিহীন দাবির তীব্র সমালোচনা করে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর চরম ভঙ্গুরতা, বিশৃঙ্খলা এবং আসন্ন বিপর্যয়ের বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ, বস্তুনিষ্ঠ ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণী বার্তায় তিনি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে ওয়াশিংটনের ভ্রান্ত অর্থনৈতিক নীতি ও আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি তাদের নিজেদের অর্থনীতিকেই খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।

 

একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের ন্যায্য অধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের নিজস্ব এবং বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের কোনো পথই ভবিষ্যতে আর খোলা থাকবে না।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকার কলিবফের এই বক্তব্য নিছক কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর বা ফাঁকা বুলি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত গভীর, সুদূরপ্রসারী এবং বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সত্য।

 

তিনি তার আনুষ্ঠানিক বার্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান জাতীয় ঋণ সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিসংখ্যানভিত্তিক উপায়ে বিশ্লেষণ করেছেন। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং পরবর্তী বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের সময়ে মার্কিন সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত ব্যয় এবং বিশ্বব্যাপী সামরিক ও কৌশলগত ব্যয় মেটানোর জন্য প্রায় শূন্য শতাংশ সুদের হারে বিপুল পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করেছিল।

 

দীর্ঘমেয়াদি সেই সস্তা ঋণের ওপর ভর করে মার্কিন অর্থনীতি আপাতদৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠলেও, বর্তমানে সেই বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধের সময় এসে কড়া নাড়ছে। বিশ্বজুড়ে চরম মূল্যস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারের যে আগ্রাসী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চলছে, তার ফলে ওয়াশিংটনকে এখন সেই পুরোনো এবং বিশাল অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করার জন্য অত্যন্ত উচ্চ ও ধ্বংসাত্মক সুদের হারে নতুন করে বাজার থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে।

 

অর্থনীতির পরিভাষায় যাকে পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং বলা হয়, সেটি এখন মার্কিন কোষাগারের জন্য এক বিশাল, অকল্পনীয় এবং প্রায় অসম্ভব বোঝার সৃষ্টি করেছে। স্পিকার কলিবফ অত্যন্ত যৌক্তিকভাবেই এই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, ঋণের এই সর্বগ্রাসী দুষ্টচক্র থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঋণগ্রস্ত অর্থনীতির জন্য এখন প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

মার্কিন অর্থনীতির এই নাজুক ও ভঙ্গুর দশার পেছনে আরও একটি বড় ও নির্ধারক কারণ হিসেবে মোহাম্মদ বাকের কলিবফ মার্কিন সরকারি ট্রেজারি বন্ডের আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান চরম হতাশাগ্রস্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন।

 

ঐতিহাসিকভাবেই মার্কিন সরকারের ট্রেজারি বন্ডের সবচেয়ে বড় দুই আন্তর্জাতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা হলো এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন ও জাপান। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভরকেন্দ্র এশিয়ার দিকে পরিবর্তিত হওয়ার ফলে এই দুই দেশ মার্কিন বন্ড কেনার ক্ষেত্রে আগের মতো আর বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

 

তারা শুধু যে নতুন বন্ড কেনা থেকেই নিজেদের বিরত রাখছে তা নয়, বরং তাদের রিজার্ভে থাকা আগে থেকে কিনে রাখা বিপুল পরিমাণ মার্কিন বন্ডও তারা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নতুন করে নবায়ন করছে না।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন বন্ডের চাহিদা এভাবে আশঙ্কাজনক ও নজিরবিহীন হারে কমে যাওয়ার কারণে ওয়াশিংটন বাধ্য হচ্ছে তাদের বন্ডের মুনাফার হার বা ইয়িল্ড ক্রমাগত বাড়াতে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনোমতে আকৃষ্ট হয়।

 

আর এই চড়া মূল্যের মুনাফা দিতে গিয়েই মার্কিন সরকারের রাজকোষ ক্রমেই শূন্য হয়ে পড়ছে, যা তাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো, জনকল্যাণমূলক ব্যয় এবং সামরিক বাজেটকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

 

বিশুদ্ধ অর্থনৈতিক এই গভীর বিশ্লেষণের পাশাপাশি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ইরানের হাতে থাকা অব্যর্থ ও কৌশলগত হাতিয়ারগুলোর কথাও অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

 

তিনি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে সরাসরি ও কঠোর ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আধুনিক বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ও অবিচ্ছেদ্য চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি তেল, আর এই বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যস্ততম এবং কৌশলগত ট্রানজিট রুট হলো হরমুজ প্রণালি।

 

এই প্রণালির ওপর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সামরিক শক্তি হিসেবে ইরানের সম্পূর্ণ নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও কৌশলগত আধিপত্য রয়েছে। কলিবফ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান চাইলে যেকোনো মুহূর্তে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে পারে বা বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

 

এর অবশ্যম্ভাবী ও তাৎক্ষণিক পরিণতি হবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের আকাশচুম্বী ও নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধি। তেলের দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করবে এবং এর সবচেয়ে বড় ও সরাসরি আঘাতটি গিয়ে পড়বে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর।

 

সেই লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে বাধ্য হয়ে পলিসি রেট বা সুদের হার আরও বাড়াতে হবে, যা মার্কিন সরকারি বন্ডের মুনাফার হার বা ইয়িল্ড বৃদ্ধিতে সরাসরি ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে।

 

স্পিকার কলিবফ মূলত এটাই বিশ্ববাসীকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইরানের হাতে থাকা এই ভূ-রাজনৈতিক তুরুপের তাসগুলো মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়কে এক অভূতপূর্ব, ক্রমবর্ধমান এবং গোলকধাঁধার মতো সংকটে আটকে ফেলেছে, যেখান থেকে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের পক্ষে সহজে বেরিয়ে আসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

এই সামগ্রিক ও জটিল প্রেক্ষাপট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সমস্যা সমাধানের জন্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, যৌক্তিক এবং নৈতিক একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

 

তার দ্ব্যর্থহীন মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি সত্যিই তাদের এই বহুমুখী, গভীর ও জটিল অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে চায়, তবে তাদের সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হলো, ইরানের আপামর জনসাধারণের আইনসঙ্গত, ঐতিহাসিক ও সার্বভৌম অধিকারকে নিঃশর্তভাবে সম্মান জানানো।

 

বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে স্বাধীন রাষ্ট্র ইরানের ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া একতরফা অর্থনৈতিক অবরোধ, আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং নির্লজ্জ রাজনৈতিক আগ্রাসনের নীতি থেকে ওয়াশিংটনকে চিরতরে সরে আসতে হবে।

 

অন্যথায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেশিশক্তির আস্ফালন দেখিয়ে এবং অন্য একটি সার্বভৌম দেশের অর্থনীতি ধসে পড়ার অমূলক, ভিত্তিহীন ও হাস্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের আসন্ন পতনকে কোনোভাবেই ঠেকাতে পারবে না।

 

কলিবফ তার নিখুঁত পরিসংখ্যানে আরও উল্লেখ করেছেন যে, অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিশ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ইতোমধ্যে গত দুই দশকের মধ্যে, বিশেষ করে ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

 

যদি বন্ডের সুদের হারের এই ঊর্ধ্বমুখী, অস্থিতিশীল ও ধ্বংসাত্মক প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে অচিরেই তা গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের চরম সংকটময় পর্যায়ে কিংবা তারও আগের কোনো ভয়াবহ মন্দার পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারে বলে তিনি গভীর ও যৌক্তিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

 

মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণী মহলের চরম বিশৃঙ্খলা, সিদ্ধান্তহীনতা ও অব্যবস্থাপনার দিকটিও কলিবফের তীক্ষ্ণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনার হাত থেকে বিন্দুমাত্র রেহাই পায়নি। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বর্তমান মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের নবনিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা ডেভিড জারভোসের একটি ছবিও অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক ও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে যুক্ত করেছেন।

 

উল্লেখ্য, সদ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী এই পদে ডেভিড জারভোসকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মহলে জারভোস তার গভীর মেধা, প্রজ্ঞা বা দূরদর্শিতার চেয়ে বরং তার অদ্ভুত, অস্বাভাবিক, খামখেয়ালি এবং প্রায়শই অপেশাদার স্বভাবের জন্য অনেক বেশি আলোচিত ও সমালোচিত।

 

স্পিকার কলিবফ একটি অত্যন্ত হাস্যকর অথচ তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ টেনে উল্লেখ করেন যে, এই বিতর্কিত ডেভিড জারভোস কয়েক বছর আগে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে এমন একটি উদ্ভট ও হাস্যকর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত না যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সুদের হার হ্রাস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের মাথার চুল ও মুখের দাড়ি কাটবেন না।

 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির একজন শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক উপদেষ্টার এহেন অসংলগ্ন, বালখিল্য ও অপেশাদার আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রশাসনের গাম্ভীর্য ও ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

 

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ, জটিল এবং প্রভাবশালী একটি অর্থনীতির নীতিনির্ধারণী ও সংকট মোকাবিলার মতো সংবেদনশীল পর্যায়ে এমন অদ্ভুত ও বিতর্কিত চরিত্রের মানুষের নিয়োগকে ঘিরে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার, ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন বিশ্ববরেণ্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক হাস্যরস, বিদ্রূপ ও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

বিশেষজ্ঞদের ও অর্থনীতিবিদদের অনেকেই গভীরভাবে মনে করছেন যে, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বর্তমানে তাদের অভ্যন্তরীণ ঋণ ও মূল্যস্ফীতির চাপে এতটাই দিশেহারা ও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে যে, তারা এই আসন্ন মহাবিপর্যয় মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত, অভিজ্ঞ এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে এমন সব বিতর্কিত ও খামখেয়ালি ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে, যারা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সমাধান করার বদলে আরও জটিল, অস্থিতিশীল ও হাস্যকর করে তুলছেন।

 

পরিশেষে, মোহাম্মদ বাকের কলিবফের এই অত্যন্ত তথ্যবহুল, তীক্ষ্ণ এবং বিশ্লেষণাত্মক জবাব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, বিশ্বায়নের ও বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান যুগে কোনো দেশই, তা সে যত বড় পরাশক্তিই হোক না কেন, সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন বা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।

 

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু ও কোণঠাসা করার যে আগ্রাসী ছক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে কষে আসছে, তা এখন সম্পূর্ণরূপে বুমেরাং হয়ে খোদ মার্কিন অর্থনীতিকেই এক গভীর, অন্ধকার ও অনিবার্য ধ্বংসের দিকে প্রবল বেগে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

 

তেহরান অত্যন্ত আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গেই বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে যে, পারস্পরিক সম্মান, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্যের অধিকার আদায়ের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সম্মানজনক সমাধান না হলে, আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়াবহ, দীর্ঘস্থায়ী ও অনিবার্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যা থেকে তাদের উদ্ধার করার মতো কেউ থাকবে না।

 

- পার্সটুডে