রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে পিছু হটেছে ইরান: ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ এএম

পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে পিছু হটেছে ইরান: ট্রাম্প
ছবি : Collected

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিদ্যমান গভীর উত্তেজনার মধ্যেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যাবতীয় পরিকল্পনা প্রায় পুরোপুরি পরিত্যাগ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি নির্ধারিত রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের বিরুদ্ধে গৃহীত কঠোর অবস্থান এবং অব্যাহত সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

 

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির বিপরীতে ইরান বরাবরের মতোই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে কোনো অবস্থাতেই তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ধরনের চেষ্টা করেনি এবং তাদের সম্পূর্ণ বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা কর্মসূচি নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা হবে না।

 

স্থানীয় সময় শনিবার ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ানে ওঠার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই কথা বলেননি, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, বিশ্ববাজারে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমছে, যা পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদের চেয়েও অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

 

এই প্রসঙ্গে তিনি সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন যে পূর্ববর্তী প্রশাসন ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।

 

ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের স্পষ্টভাবে বলেন যে বাইডেন প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার বিপরীতে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ও সুদূরপ্রসারী কৌশল গ্রহণ করেছে, যার সরাসরি ফল হিসেবে ইরান এখন তাদের অস্ত্র নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে কার্যকরভাবে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে।

 

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্প এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য ব্যক্ত করলেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে ইরানি সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এক নজিরবিহীন সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে প্রবেশ করে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাত ইতোমধ্যে দীর্ঘ আট মাস অতিক্রম করেছে, যা গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।

 

বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ ও জ্বালানি পরিবহন করিডোর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ে এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে লাগামহীনভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

 

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও মূল্যস্ফীতির চাপ দেখা দিয়েছিল। এমন এক সংকটময় প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন যে বাজারে তেলের দাম কমে আসা তাদের অনুসৃত পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতিমালার এক বিরাট বিজয়, যদিও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি এখনও সম্পূর্ণ দূর হয়নি।

 

হোয়াইট হাউস থেকে এমন দাবি উত্থাপিত হলেও তেহরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রধান আঞ্চলিক মিত্র ইসরায়েলের তোলা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে একবাক্যে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

 

ইরানের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কখনই কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে ধাবিত হয়নি এবং তাদের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বেসামরিক। সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একই ধরনের বক্তব্য জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

 

পেজেশকিয়ান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে ইসলামি অনুশাসন এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার বা ফতোয়ার কারণেই তেহরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের কথা চিন্তাও করতে পারে না।

 

তিনি বিশ্বনেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে ইরানের সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় দর্শন ও সামরিক নীতিতে গণবিধ্বংসী কোনো মারণাস্ত্র তৈরি সম্পূর্ণ অনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ফলে রাজনৈতিক বা সামরিক চাপের মুখে ইরান নিজেদের অবস্থান বদলেছে বলে ওয়াশিংটন যে প্রচারণা চালাচ্ছে, তা বাস্তবতাবিবর্জিত একটি দাবি ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিদ্যমান অবিশ্বাস দূর করার সদিচ্ছা প্রকাশ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক প্রস্তাবও বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেছিলেন।

 

তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ইরান তাদের মজুত করা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে প্রস্তুত রয়েছে।

 

তবে এই ইতিবাচক প্রস্তাবের পাশাপাশি তেহরান তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নেও অত্যন্ত বলিষ্ঠ অবস্থান ব্যক্ত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে ব্যবহৃত শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো থেকে তারা কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবে না।

 

এছাড়া তেহরানের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একতরফা ও অমানবিক সব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল রূপরেখায় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে না।

 

অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রেখে ইরানের কাছ থেকে একপাক্ষিক আনুগত্য আদায় করা অসম্ভব বলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক বক্তব্যকে কেবল নির্বাচনী বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখলে আন্তর্জাতিক সমীকরণের মূল দিকটি আড়ালে থেকে যাবে।

 

দীর্ঘ আট মাস ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন এমন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, যেখানে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি পুরো অঞ্চলকে আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

 

একদিকে ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনের সমন্বিত সামরিক চাপ ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সার্বভৌম মর্যাদা প্রদর্শনে অবিচল রয়েছে।

 

পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে সৃষ্ট এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন কেবল আঞ্চলিক সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিশ্ব কূটনীতি ও বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্যের ওপর গভীরভাবে পড়ছে।

 

অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ওয়াশিংটন হয়তো সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে নিজেদের অনুকূলে রাখতে ইরানের তথাকথিত নতিস্বীকারের বিবরণ প্রচার করছে।

 

তবে কেবল একতরফা রাজনৈতিক ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করা সম্ভব নয় বলে সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ বিশেষজ্ঞরা। পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান আসলেই তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়েছে কি না কিংবা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্র নির্মাণের কোনো গোপন প্রচেষ্টা স্থগিত করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একমাত্র প্ল্যাটফর্ম হলো আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা।

 

বর্তমান যুদ্ধাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নিরপেক্ষ তথ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মার্কিন প্রশাসনের আত্মবিশ্বাসী দাবি এবং তেহরানের অনমনীয় অস্বীকারের মধ্যবর্তী প্রকৃত চিত্রটি এখনও অস্পষ্ট।

 

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেবল নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আসলে কী ধরনের অগ্রগতি বা পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।

 

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংকট দূর করতে হলে উভয় পক্ষকেই বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক সমঝোতার পথে এগিয়ে আসতে হবে। সংঘাতের বিস্তার কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি স্থায়ী হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ পরিহার করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান দায়িত্ব। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের অন্যান্য শক্তিগুলো ইতোমধ্যেই উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।

 

সামরিক আক্রমণ বা হুমকির মাধ্যমে কোনো পক্ষকে তাদের মৌলিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত করা যে প্রায় অসম্ভব, তা বিগত আট মাসের ঘটনাবলি থেকেই অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। সারগ্রাহী মূল্যায়নে প্রতীয়মান হয় যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য চলমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা যোগ করেছে।

 

তবে তেহরানের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত বহাল রাখার ঘোষণা ইঙ্গিত দেয় যে পারমাণবিক দ্বন্দ্বের মূল সংকটের শিকড় এখনও অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত। সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করার চেয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চুক্তির কাঠামো তৈরি করাই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র টেকসই উপায়।

 

ওয়াশিংটনের দাবি এবং তেহরানের নীতিগত প্রতিরোধের এই মুখোমুখি অবস্থান আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন দিকে ধাবিত করবে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল।

 

- আনাদোলু