শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ সচলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের প্রস্তাব, শান্তির ভবিষ্যৎ এখন ওয়াশিংটনের হাতে

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

হরমুজ সচলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের প্রস্তাব, শান্তির ভবিষ্যৎ এখন ওয়াশিংটনের হাতে
ছবি : File Photo

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যখন ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন একটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।

 

বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নৌপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণ সচল এবং নিরাপদ করার লক্ষ্যে তেহরান একটি সুনির্দিষ্ট সাত দিনের রূপরেখা বা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই প্রস্তাবটি নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, জোরালো এবং আত্মবিশ্বাসী ভাষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

 

কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রজ্ঞার সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বল এখন পরিষ্কারভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে অবস্থান করছে। তেহরান তার শান্তির সদিচ্ছা প্রমাণ করেছে, এখন ওয়াশিংটনকেই নির্ধারণ করতে হবে তারা সংঘাত ও উত্তেজনার পথে হাঁটবে নাকি সমতাভিত্তিক সমাধানের পথ বেছে নেবে।

 

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে, ইরাকের ঐতিহাসিক রাজধানী বাগদাদে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন বা ওআইসি-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

মুসলিম বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববাসীর সামনে তার দেশের এই নতুন ও ইতিবাচক কূটনৈতিক অবস্থানের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

 

বাগদাদের এই সম্মেলন এমন এক সংকটময় সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এক অজানা রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওআইসির এই বহুপাক্ষিক মঞ্চকে ব্যবহার করে আরাগচি মূলত পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতি একটি কড়া কিন্তু অত্যন্ত গঠনমূলক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

 

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নৌপথের নিরাপত্তা কখনোই গায়ের জোরে বা একতরফাভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়; এর জন্য একান্ত প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং বাস্তবসম্মত সমঝোতা।

 

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি-এর এই সম্মেলনটি শুধুমাত্র একটি গতানুগতিক বৈঠক ছিল না, বরং এটি ছিল মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সংহতি প্রদর্শনের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম। বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই সংগঠনটি দীর্ঘকাল ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে আসছে।

 

বাগদাদের মতো ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি শহরে এই সম্মেলনের আয়োজন এমনিতেই অনেক বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। এই সম্মেলনে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি ইরানের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের উপস্থিতি এবং এমন একটি যুগান্তকারী প্রস্তাবনা পেশ করা প্রমাণ করে যে, তেহরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের পাশাপাশি বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বকেও তার কূটনৈতিক অবস্থানের সপক্ষে রাখতে চাইছে।

 

ওআইসিভুক্ত দেশগুলোও দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা কামনা করে আসছে, কারণ যেকোনো সংঘাতের প্রথম এবং সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে এই দেশগুলোর সাধারণ মানুষের ওপর।

 

ফলে আরাগচির এই বক্তব্য সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গৃহীত হয়েছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হরমুজ প্রণালির ভূ-কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সমগ্র বিশ্বের কাছেই এক অনস্বীকার্য বাস্তব।

 

বিশ্বের উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন এই সরু ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালির ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক অবরোধ, সংঘাত বা অস্থিতিশীলতা গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ও অর্থনীতিতে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে যে তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল, তার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই কাতারের মতো একটি পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রের শরণাপন্ন হয়েছে।

 

দোহা এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বন্দি বিনিময় এবং পারমাণবিক চুক্তিসহ বিভিন্ন জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে সফলভাবে মধ্যস্থতা করেছে। সেই ইতিবাচক অভিজ্ঞতার আলোকেই তেহরান প্রবলভাবে আশা করছে যে, তাদের দেওয়া সাত দিনের এই সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ প্রস্তাবনাটি যদি ওয়াশিংটন গুরুত্বের সঙ্গে ও খোলা মনে বিবেচনা করে, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির আবহ তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্যও স্বস্তিদায়ক হবে।

 

চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ও বর্তমান নানা বিতর্কিত, আগ্রাসী এবং একতরফা পদক্ষেপের দিকেও অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও সমালোচনামূলক ইঙ্গিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি তার বক্তব্যে অত্যন্ত কঠোর ও সুচিন্তিত ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন যে, অতীত ভুল এবং যুদ্ধংদেহী অপরাধমূলক নীতির পুনরাবৃত্তি করে কোনো অঞ্চলে কখনোই টেকসই নিরাপত্তা বা প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

 

দশকের পর দশক ধরে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের ওপর অন্যায়ভাবে চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রাখা, কথায় কথায় সামরিক আগ্রাসন বা বোমাবর্ষণের ক্রমাগত হুমকি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি চরমভাবে লঙ্ঘন করে নিজেদের একতরফা সিদ্ধান্ত অন্য রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পর পশ্চিমা বিশ্ব কোনোভাবেই এই অলীক আশা করতে পারে না যে, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ওই অঞ্চলে সম্পূর্ণ নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করবে।

 

আরাগচির মতে, নিরাপত্তা একটি অবিভাজ্য ও পারস্পরিক বিষয়। ইরানকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতায় রেখে এবং অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা করে অন্যান্য পরাশক্তি ও তাদের মিত্ররা ওই অঞ্চলে নিরাপদে থাকবে, এমন চিন্তা সম্পূর্ণ অবাস্তব, অন্যায় ও অযৌক্তিক।

 

নিজের দেশের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরান যে কখনোই বিন্দুমাত্র আপস করবে না, সে বিষয়টিও বাগদাদের ওআইসি সম্মেলনে অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ও প্রখর ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন আব্বাস আরাগচি।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার দেশের সাধারণ মানুষ, তাদের জানমালের নিরাপত্তা, ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত সকল বৈধ স্বার্থ রক্ষায় পুরোপুরি ও অবিচলভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

যেকোনো বহিঃশত্রুর অযাচিত আক্রমণ বা আগ্রাসন থেকে নিজ ভূখণ্ড ও জলসীমাকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক সামরিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর কূটনৈতিক দর্শনও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, নিজের ন্যায্য অধিকার, সম্মান ও মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং একই সঙ্গে শান্তির পথে হাঁটার মধ্যে কোনো ধরনের অন্তর্নিহিত বা আদর্শিক বিরোধ নেই। একটি দেশ যখন নিজের প্রতিরক্ষায় আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় থাকে, ঠিক তখনই সে সম্মানের সঙ্গে শান্তির জন্য আলোচনা করতে পারে। ইরান ঠিক সেই যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কাজটিই করে যাচ্ছে।

 

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলেও ইরানের এই প্রস্তাবের গুরুত্ব অপরিসীম। বিগত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের যে ওঠানামা দেখা গেছে, তা পশ্চিমা দেশগুলোসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও মারাত্মক মূল্যস্ফীতির সৃষ্টি করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা বর্তমানে তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নিয়েও যথেষ্ট চাপের মুখে রয়েছে। বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে এমনিতেই বিশ্ব অর্থনীতি একটি মন্দার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি নতুন ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হলে বা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব থেকে কেউই মুক্ত থাকতে পারবে না।

 

ইরান অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে এই অর্থনৈতিক সমীকরণের দিকটি অনুধাবন করেই ঠিক এমন একটি সময়ে এই সাত দিনের প্রস্তাবটি দিয়েছে, যখন পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি নতুন যুদ্ধ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

সুতরাং, তেহরানের এই পদক্ষেপ কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক কূটনীতি নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক কূটনীতিরও অংশ। আধুনিক যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং তার সুদূরপ্রসারী ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে ইরান যে সম্পূর্ণভাবে এবং গভীরভাবে সচেতন, তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুচিন্তিত কথায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যতগুলো প্রক্সি যুদ্ধ বা সরাসরি সংঘাত সংঘটিত হয়েছে, তার প্রতিটিই বারবার প্রমাণ করেছে যে, সামরিক সংঘাত কখনোই কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান আনতে পারে না, বরং তা কেবল ধ্বংসস্তূপেরই জন্ম দেয়।

 

আরাগচি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, যুদ্ধের কারণে একটি দেশের বিকাশমান অর্থনীতি, জাতীয় অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কী পরিমাণ অপরিসীম, মর্মান্তিক ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে তেহরানের অত্যন্ত গভীর ও বাস্তবমুখী উপলব্ধি রয়েছে।

 

আর ঠিক সেই কারণেই, একটি শক্তিশালী ও সুসজ্জিত সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরান যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতকে সচেতনভাবে এড়িয়ে গিয়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কূটনীতিকে এতটা সর্বোচ্চ মাত্রায় গুরুত্ব প্রদান করে।

 

তেহরান সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করে যে, ভূ-রাজনীতির যেকোনো জটিল ও কঠিন সংকটের চূড়ান্ত সমাধান একমাত্র সমতাভিত্তিক আলোচনার টেবিলেই সম্ভব, রক্তক্ষয়ী রণক্ষেত্রে নয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, ইরানের এই নতুন, অভাবনীয় এবং সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক চালটি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনীতিতে একটি সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

এখন সারা বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং নীতিনির্ধারকদের তীক্ষ্ণ নজর হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা কীভাবে ইরানের এই সাত দিনের সময়াবদ্ধ রূপরেখাকে মূল্যায়ন করেন এবং কাতারের এই আন্তরিক মধ্যস্থতাকে কতটা ইতিবাচকভাবে কাজে লাগান, তার ওপরই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিসহ সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

 

যদি যুক্তরাষ্ট্র তার অনমনীয় অবস্থান পরিহার করে এই বাস্তবসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং একটি গঠনমূলক ও সম্মানজনক সংলাপে অংশগ্রহণ করে, তবে এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

 

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন যদি এই বিরল কূটনৈতিক সুযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং তাদের চিরাচরিত আধিপত্যবাদ ও চাপ প্রয়োগের নীতিতেই অটল থাকে, তবে এই অঞ্চলে সংঘাতের দাবানল আরও ব্যাপকভাবে এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা থেকেই যায়।

 

পরিশেষে, বৃহত্তর স্বার্থে এবং আঞ্চলিক শান্তির জন্য তেহরান যে অভাবনীয় সদিচ্ছা ও দূরদর্শিতা দেখিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে শান্তি আলোচনার বল এখন সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে অবস্থান করছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন সেই বল দিয়ে শান্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, নাকি সংঘাতের এক নতুন ও ভয়াবহ অধ্যায়ের সূচনা করে।

 

- আল-জাজিরা