শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজা শান্তি পরিকল্পনায় সবচেয়ে লাভবান কাতার!

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০২:৪৪ পিএম

গাজা শান্তি পরিকল্পনায় সবচেয়ে লাভবান কাতার!
ছবি: AP

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন গাজা শান্তি পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে গভীর সংশয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ভূ-রাজনৈতিক খেলায় এরই মধ্যে একটি দেশ সবচেয়ে বড় বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে—আর সেটি হলো কাতার।

 

বিশ্লেষকদের মতে, দুটি সাম্প্রতিক ঘটনা কাতারের প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথমত, চলতি মাসে হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলাটি ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ত, এই হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে কাতারের কাছে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হন।

 

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের এমন প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনাকে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাটি কাতারের সম্মান ও প্রভাব শুধু আরব বিশ্বেই নয়, ওয়াশিংটনেও অভাবনীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে কয়েক বছর আগেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো কাতারকে বয়কট করেছিল, সেখানে এখন তারাই কাতারের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে।

 

ট্রাম্পের নতুন শান্তি পরিকল্পনাতেও কাতারের এই বর্ধিত প্রভাবের প্রতিফলন স্পষ্ট। হামাসকে আশ্রয় ও অর্থায়ন করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কাতারকে শাস্তি দেওয়ার বদলে গাজার ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে ‘কাতারি প্যারাডক্স’। একদিকে কাতার হামাসের মতো ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোকে সমর্থন করে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিটি কাতারে অবস্থিত। এই সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরতার কারণেই আমেরিকা কাতারের অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে উপেক্ষা করতে বাধ্য হয়।

 

সর্বোপরি, নেতানিয়াহুর ক্ষমা প্রার্থনা এবং ট্রাম্পের সমর্থন—এই দুইয়ে মিলে কাতার এখন গাজা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, যুদ্ধের জন্য কাতারকে শাস্তি দেওয়া তো দূরে থাক, উল্টো পুরস্কৃত করা হয়েছে।

 

- Times Of Israel