দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ইরান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক ফোনালাপে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ইরান যদি তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে এবং আইএইএ-কে পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হয়, তবেই এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। তবে এই প্রস্তাবের পাশাপাশি কঠোর মনোভাবও প্রকাশ করেছে জার্মানি। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমরা কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সবরকম চেষ্টা করতে প্রস্তুত, কিন্তু চলতি গ্রীষ্মের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে আমরা ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা কার্যকর করতেও সমানভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পথে হাঁটে, তবে ইরানও তার ‘যোগ্য ও আনুপাতিক জবাব’ দেবে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ভিয়েনা বা জেনেভায় ইরান এবং ইউরোপীয় তিন দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে, তবে বৈঠকের স্থান ও সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী, চুক্তির কোনো পক্ষ যদি মনে করে ইরান শর্ত লঙ্ঘন করছে, তবে তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ জানাতে পারে। এর ৩০ দিনের মধ্যে কোনো সমাধান না হলে ইরানের ওপর পূর্বের সব কঠোর নিষেধাজ্ঞা, যেমন—অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে। এই প্রক্রিয়াটিই ‘স্ন্যাপব্যাক’ নামে পরিচিত। ইউরোপের এই নতুন প্রস্তাবের পর এখন সব পক্ষের দৃষ্টি আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে।
---