মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়: অনাহারে ৩৫ দিনের শিশুর মৃত্যু, একদিনেই নিহত ১১৬ ফিলিস্তিনি

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৫, ০৪:০৭ এএম

গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়: অনাহারে ৩৫ দিনের শিশুর মৃত্যু, একদিনেই নিহত ১১৬ ফিলিস্তিনি
ফাইল ছবি

ইসরায়েলি অবরোধ এবং ত্রাণ বিতরণে ধারাবাহিক হামলার মুখে গাজায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। শনিবার গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে অনাহারে মাত্র ৩৫ দিন বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা সেখানকার ভয়াবহ খাদ্য সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, অপুষ্টির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়। একই দিনে অনাহারে আরও একজন ব্যক্তি ওই হাসপাতালে মারা যান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানকার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ অভূতপূর্ব সংখ্যক অভুক্ত মানুষে ছেয়ে গেছে এবং অন্তত ১৭,০০০ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে।

 

এই মানবিক সংকটের পাশাপাশি শনিবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৮ জন মার্কিন-সমর্থিত বিতর্কিত ত্রাণ কেন্দ্র থেকে খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীরা এই ত্রাণ কেন্দ্রগুলোকে "মৃত্যুফাঁদ" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, "হঠাৎ করেই আমরা দেখলাম একদিক থেকে জিপ এবং অন্যদিক থেকে ট্যাংক এসে আমাদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করেছে।" যদিও মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) এই হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করেছে।

 

এদিকে, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সতর্ক করে বলেছে যে, গাজার ফিলিস্তিনিরা "দুর্ভিক্ষের তীব্র ঝুঁকির" মধ্যে রয়েছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা  জানিয়েছে, গাজার সমগ্র জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী মিশর সীমান্তে প্রস্তুত রয়েছে। সংস্থাটি ইসরায়েলের প্রতি অবিলম্বে সীমান্ত খুলে দেওয়ার এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। শনিবারের হামলাগুলোতে খান ইউনিসের কাছে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু এবং মধ্য গাজায় একটি আবাসিক বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হয়, যেখানে নুসেইরাত থানার পুলিশ প্রধান কর্নেল ওমর সাঈদ আকল তার পরিবারের ১১ জন সদস্যসহ নিহত হন। এই ঘটনাগুলো গাজায় চলমান সংঘাত এবং মানবিক বিপর্যয়ের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

 

---

আল জাজিরা