রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী, ‘অগ্রহণযোগ্য’ কে, সিদ্ধান্ত নেবে ইসরায়েল, জানালেন নেতানিয়াহু

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ০১:২০ পিএম

গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী, ‘অগ্রহণযোগ্য’ কে, সিদ্ধান্ত নেবে ইসরায়েল, জানালেন নেতানিয়াহু
ছবি: Reuters

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আজ (রোববার) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরিকল্পনা অনুসারে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাতে কোন কোন বিদেশি শক্তিকে অনুমতি দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলই নেবে।

 

নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন এই প্রস্তাবিত বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর গঠন এবং তার সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় মার্কিন সেনা না পাঠানোর নীতি গ্রহণ করলেও, এই বাহিনীতে মিশর, ইন্দোনেশিয়া এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সৈন্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

জেরুজালেমে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের নিরাপত্তার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখি এবং আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিষয়েও আমরা এটা স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, কোন কোন বাহিনী আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য, তা ইসরায়েলই নির্ধারণ করবে। এভাবেই আমরা কাজ করি এবং ভবিষ্যতেও করব।"

 

তিনি আরও যোগ করেন, এই অবস্থানটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, "সাম্প্রতিক দিনগুলোতে [মার্কিন প্রশাসনের] সবচেয়ে ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।" নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন যে, ইসরায়েল একটি স্বাধীন দেশ এবং তিনি এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন যে "মার্কিন প্রশাসন আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণ করে।" বরং, তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে একটি 'অংশীদারিত্ব' হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

উল্লেখ্য, হামাসের ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালের আন্তঃসীমান্ত হামলার পর ইসরায়েল গাজায় দুই বছর ধরে বিমান ও স্থল অভিযান চালিয়ে আসছে এবং এখনো এই ভূখণ্ডে প্রবেশের সকল পথে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

 

গাজা শান্তি বাহিনীতে তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, গাজা উপত্যকায় তুরস্কের কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর অংশগ্রহণকে তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন।

 

গাজা যুদ্ধের সময় তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তায়িপ এরদোগান ছোট এই ফিলিস্তিনি ছিটমহলে ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক বিমান ও স্থল অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি জোরদার করার লক্ষ্যে ইসরায়েল সফরে এসে স্পষ্ট করে দেন যে, আন্তর্জাতিক বাহিনীতে এমন দেশগুলোর সৈন্য থাকতে হবে, যাদের সঙ্গে "ইসরায়েলের স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে"। তবে তিনি তুরস্কের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। রুবিও আরও বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ইসরায়েল এবং অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে ঠিক করতে হবে, কিন্তু এতে কোনোভাবেই হামাস অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও জানান, গাজায় বহুজাতিক বাহিনীর অনুমোদনের জন্য সম্ভাব্য একটি জাতিসংঘের প্রস্তাব বা আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ইস্যুটি নিয়ে আজ (রোববার) কাতারে আলোচনা করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসন চায়, আরব রাষ্ট্রগুলো যেন এই বাহিনীতে অর্থ ও সৈন্য দিয়ে সহায়তা করে।

 

এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, হামাস এখন পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় হিসেবে দুই সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, হামাস তাদের ক্ষমতার উপর প্রভাব বিস্তার করতে চাওয়া দলগুলোর বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়ন শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি গাজার নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

 

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়ে ইসরায়েল কোনো আপস করবে না এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রাখবে।

 

- Reuters