মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘গাজা ক্ষুধার্ত’: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়, অনাহারে মৃত্যুর ছবি ভাইরাল

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৫, ০১:০৭ এএম

‘গাজা ক্ষুধার্ত’: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়, অনাহারে মৃত্যুর ছবি ভাইরাল
ফাইল ছবি

ইসরায়েলি অবরোধ এবং ত্রাণপ্রত্যাশী ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমাগত হামলার মুখে গাজা উপত্যকায় যখন দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, তখন বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ‘#GazaIsStarving’ (গাজা ক্ষুধার্ত) হ্যাশট্যাগে। এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লাখো মানুষ গাজার মানবিক সংকট তুলে ধরছেন এবং অবিলম্বে এই "মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ" বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন।

 

রবিবার পর্যন্ত শুধু এক্স প্ল্যাটফর্মেই এই হ্যাশট্যাগের আরবি সংস্করণ ব্যবহার করে ২ লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি পোস্ট করা হয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মটির শীর্ষ ট্রেন্ডিং তালিকায় উঠে আসে। এই প্রতিবাদের মূল উৎস ফিলিস্তিনি সার্জন ডা. ঘাসান আবু সিত্তার প্রায় দুই বছর আগে দেওয়া একটি সতর্কবাণী: "মানুষ অনাহারে থাকতে শুরু করেছে।" তার সেই কথাই আজ বিশ্বব্যাপী এক প্রতিবাদী স্লোগানে পরিণত হয়েছে। এই হ্যাশট্যাগের অধীনে নেটিজেনরা গাজার হৃদয়বিদারক সব ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন। এর মধ্যে রয়েছে অপুষ্টিতে ভোগা শীর্ণ শিশুদের ছবি, ত্রাণের জন্য  মানুষের ভিড় এবং ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার দৃশ্য। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বারবার সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় খাদ্য ও ঔষধ প্রবেশে বাধা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের, বিশেষ করে ১০ লাখেরও বেশি শিশুকে, অনাহারে মারছে।

 

বাস্তব পরিস্থিতি এই ডিজিটাল প্রতিবাদের যথার্থতা প্রমাণ করে। গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত একটি সাহায্য সংস্থার ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি আল জাজিরার যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চলতি মাসের ১০ তারিখে দক্ষিণ রাফাহর একটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী খাবারের জন্য অপেক্ষারত ফিলিস্তিনিদের ওপর পিপার স্প্রে ব্যবহার করছে। ইসরায়েল যখন জাতিসংঘের প্রধান ত্রাণ সংস্থা UNRWA-কে গাজায় কার্যক্রম চালাতে দিচ্ছে না, তখন এই ডিজিটাল আন্দোলনই হয়ে উঠেছে বিশ্ববাসীর কাছে গাজার আসল চিত্র তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম। সোশ্যাল মিডিয়ার এই প্রতিবাদকে অনেকেই এখন এই সংকটের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।

 

---

আল জাজিরা