মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লেবাননে পোপ লিও চতুর্দশের ঐতিহাসিক সফর

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৪১ পিএম

লেবাননে পোপ লিও চতুর্দশের ঐতিহাসিক সফর
ছবি: AP

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে আশার আলো নিয়ে লেবানন সফর করলেন পোপ লিও চতুর্দশ। সোমবার দেশটির খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি লেবাননের আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই অঞ্চলের জন্য "ঈশ্বরের উপহারস্বরূপ শান্তির" আহ্বান জানান। পোপের এই সফরকে ঘিরে লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

 

বৈরুতের রাজপথে পোপকে স্বাগত জানাতে অগণিত মানুষের ঢল নামে। সকালের তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার সাধারণ লেবানিজ নাগরিক পোপের মোটরশোভাযাত্রার পথে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। রাজধানীজুড়ে শোভা পাচ্ছিল পোপের ছবি সম্বলিত বিশাল সব বিলবোর্ড। সফরের প্রথম দিনেই তিনি বৈরুতের শহীদ চত্বরে (মার্টায়ার্স স্কয়ার) আয়োজিত এক বিশেষ আন্তঃধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেন।

 

একটি বিশাল তাঁবুর নিচে আয়োজিত এই সমাবেশে লেবাননের খ্রিস্টান প্যাট্রিয়ার্কদের পাশাপাশি সুন্নি, শিয়া এবং দ্রুজ সম্প্রদায়ের শীর্ষ আধ্যাত্মিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাইবেল ও পবিত্র কোরআন থেকে পাঠ এবং ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পোপ লিও চতুর্দশ তার বক্তব্যে বলেন, "এমন এক যুগে যখন সহাবস্থান একটি দূরবর্তী স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে, তখন লেবাননের মানুষ বিভিন্ন ধর্মকে ধারণ করে প্রমাণ করেছে যে ভয়, অবিশ্বাস এবং কুসংস্কার শেষ কথা হতে পারে না। বরং ঐক্য, পুনর্মিলন এবং শান্তি স্থাপন অবশ্যই সম্ভব।"

 

তিনি ক্যাথলিক চার্চের জন্য লেবানন এবং এর খ্রিস্টান জনসংখ্যার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষে শান্তির প্রতীক হিসেবে ধর্মীয় নেতারা যৌথভাবে একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ২০২০ সালের বৈরুত বন্দরের বিস্ফোরণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের ফলে দেশটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

 

এমন এক ক্রান্তিলগ্নে পোপের এই সফর লেবানিজদের মনে নতুন করে বাঁচার আশার সঞ্চার করেছে। লেবাননের ক্যাথলিক স্কুলগুলোর সেক্রেটারি জেনারেল রেভারেন্ড ইউসেফ নাসর বলেন, "যুদ্ধ, সংকট ও হতাশার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর আমাদের জন্য এই সফরের খুব প্রয়োজন ছিল। পোপের এই উপস্থিতি লেবানিজদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাবে।"

 

অনুষ্ঠানে লেবাননের গ্র্যান্ড সুন্নি মুফতি আব্দুল-লতিফ দরিয়ান পোপকে স্বাগত জানিয়ে পূর্ববর্তী পোপ ফ্রান্সিসের গড়া সম্প্রীতির সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, লেবানন হলো এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বার্তার প্রকৃত ভূমি। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে লেবাননেই আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক খ্রিস্টান বসবাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

 

ভ্যাটিকান মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে খ্রিস্টান ধর্মের অস্তিত্ব ও প্রভাব রক্ষায় লেবাননের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরি। গৃহযুদ্ধ ও পরবর্তী নানা সংকটের কারণে অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও, মাতৃভূমিতে তাদের অবস্থান ও সহাবস্থান এখনও বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

 

- Euro News