ইরানের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেন আফশিন সম্প্রতি মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিকস ওয়ার্কিং গ্রুপের গবেষণা অবকাঠামো বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরে। হোসেন আফশিন জানান, বৈঠকে উপস্থিত সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ইরানের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রস্তাবটির মূল ভিত্তি হলো গবেষণাগারের অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া, যাতে পৃথকভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় না করেই উন্নত গবেষণার সুযোগ তৈরি করা যায়। ইরান তাদের নিজস্ব সফল ‘জাতীয় ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক মডেল’-এর আদলে এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কটি গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে। আফশিন উল্লেখ করেন, ব্রিকস সদস্যরা এই মডেলটি পর্যালোচনা করতে এবং গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে গবেষণার সামগ্রিক খরচ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।
অনেক সময় গবেষণার প্রয়োজনে এমন কিছু অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির দরকার হয়, যা বছরে হয়তো মাত্র এক বা দুবার ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি দেশের পক্ষে এককভাবে এসব যন্ত্রপাতি কেনা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। যৌথ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো একে অপরের দামি ও দুষ্প্রাপ্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ পাবে, যা সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট আফশিন আরও জোর দিয়ে বলেন, সমান্তরাল বা পৃথক বিনিয়োগের বদলে দেশগুলো যদি তাদের সক্ষমতাগুলোকে একত্রিত করে, তবে তা বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রসারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে, বিশেষ করে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) এবং সাম্প্রতিক চীন সফরের সময়ও ইরান এই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ইরানের মূল বক্তব্য হলো, প্রযুক্তিকে অবশ্যই সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে হবে, আর এর অন্যতম পূর্বশর্ত হলো যৌথ গবেষণাগার নেটওয়ার্ক তৈরি করা। প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানোর একমাত্র উপায় হলো ল্যাবরেটরি সেবার খরচ কমানো, এবং এর বাস্তবসম্মত সমাধান নিহিত রয়েছে যৌথ ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণের মধ্যে।
ব্রিকস সদস্যরা ইরানের ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক মডেল ব্যবহার করে নিজেদের ল্যাবরেটরিগুলোকে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে, যা তাদের গবেষণার মান ও দক্ষতাকে আরও পরিপক্ব করবে। এছাড়া, সম্প্রতি কাতারে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনীতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথেও ল্যাবরেটরি সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিজ্ঞানের দুয়ার আরও প্রশস্ত হবে।