গত বুধবার আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তিনি এই রাজনৈতিকভাবে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
গত ডিসেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীর রাজ্যে বাবরি মসজিদ নির্মাণের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে বেলডাঙা এলাকায় এর নির্মাণকাজও শুরু হয় বলে জানা যায়।
মূলত এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেই অমিত শাহ তাঁর এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন। জনসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মমতা দিদি এবং তাঁর ভাতিজা যতই চেষ্টা করুন না কেন, স্বামী বিবেকানন্দের এই পবিত্র ভূমিতে কোনোভাবেই বাবরি মসজিদ নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।
এই বাংলাকে তিনি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে উপস্থিত সমর্থকদের মাঝে জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গেও কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নেন বিজেপির এই শীর্ষ নেতা।
তিনি জোরালো অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে মুঘল, ব্রিটিশ এবং কংগ্রেসের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাম মন্দির নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করার অবিরাম চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
কিন্তু ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার গঠন হওয়ার পর সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাম মন্দির নির্মাণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অমিত শাহ দাবি করেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের একজন প্রাক্তন বিধায়ককে ব্যবহার করে নতুন করে বাবরি মসজিদ নির্মাণের গভীর ছক কষছেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এই রাজ্যে এমন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া আদৌ উচিত হবে কি না। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কড়া বার্তা দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন যে, ত্রিপুরা, আসাম ও বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও যদি বিজেপি নিজেদের সরকার গঠন করতে পারে, তবে সীমান্ত জুড়ে মজবুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে।
দেশ থেকে সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করার পাশাপাশি নতুন করে কাউকেই এই রাজ্যে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়া, পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের চরম ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন যে, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিগুলো সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।