শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব প্রযুক্তির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈমুর’-এর সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান নৌবাহিনী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

নিজস্ব প্রযুক্তির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈমুর’-এর সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান নৌবাহিনী
ছবি: Dawn News

জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার ধারাবাহিকতায় সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈমুর’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী।

 

মঙ্গলবার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এক আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বিবৃতির মাধ্যমে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সামরিক পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ পাকিস্তানের সামগ্রিক নৌ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কৌশলগত দিক থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল এবং আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যুক্ত করল।

 

আইএসপিআর-এর ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত জাহাজ-বিধ্বংসী এই অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষার সময় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

 

এই পরীক্ষাটি মূলত পাকিস্তান নৌবাহিনীর নিখুঁত নিশানায় লক্ষ্যভেদ করার অসামান্য সক্ষমতা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য তাদের সামরিক ও অভিযানগত প্রস্তুতির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রত্যক্ষ প্রদর্শনী।

 

দূরপাল্লা থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সামুদ্রিক হুমকি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শনাক্ত করা এবং তা চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর যে অত্যাধুনিক সক্ষমতা রয়েছে।

 

এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দেশটির সামরিক সদর দপ্তর জোরালোভাবে দাবি করেছে। সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর এই সফল পরীক্ষাকে জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে।

 

তারা দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছে, এই অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল অন্তর্ভুক্তি প্রথাগত যুদ্ধের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী ও সমন্বিত আক্রমণাত্মক অবস্থানকে বহুগুণে সুদৃঢ় করবে।

 

দেশের বিস্তীর্ণ জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনী তাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার পালনে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়।

 

সামরিক ক্ষেত্রে এমন অনন্য প্রযুক্তিগত সাফল্যের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস এবং অন্যান্য সামরিক বাহিনীর প্রধানরা এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত সকল অসামান্য বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন।

 

এর পাশাপাশি, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এই সফল পরীক্ষাকে পাকিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে নৌবাহিনীকে বিশেষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

 

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, মাতৃভূমির সামুদ্রিক সীমানা সুরক্ষায় নৌবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অবিচল রয়েছে। নিজেদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা কৌশল আধুনিকায়নের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তান নৌবাহিনী সম্প্রতি সাগরে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরীক্ষা পরিচালনা করেছে।

 

এর ঠিক কয়েক দিন আগে, গত ১৬ই এপ্রিল তারা দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম দেশীয় প্রযুক্তির আরও একটি জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল।

 

এরও আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উত্তর আরব সাগরে আয়োজিত এক সমন্বিত সামরিক মহড়া চলাকালীন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

 

সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাকিস্তানের এই ধারাবাহিক সামরিক অগ্রগতি ও অস্ত্রের পরীক্ষা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

 

- ডন