মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বিবৃতির মাধ্যমে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আহ্বানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগামী বুধবার এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে, সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এড়াতে এবং কাঙ্ক্ষিত শান্তি আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখতে ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক তাৎপর্য বহন করছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি পাকিস্তানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক এবং চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স (Chargé d'Affaires) নাটালি এ. বেকারের সাথে এক বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।
এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বর্তমান সংকটময় ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।
তিনি মার্কিন এই কূটনীতিককে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকেই তাদের বর্তমান অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।
এই বৃহত্তর স্বার্থে দুই দেশেরই উচিত তাদের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান চরম অবিশ্বাস এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা আলোর মুখ দেখেনি এবং ইরান এখনও তাদের কোনো প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ইরানে পুনরায় ব্যাপক বোমা হামলার যে প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন, তা এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ঠিক এই ধরনের একটি চরম শ্বাসরুদ্ধকর ও অনিশ্চিত মুহূর্তে পাকিস্তান মূলত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে এবং গোটা অঞ্চলকে একটি ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে রক্ষা করতেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের এই আহ্বান কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোর মরিয়া চেষ্টা।
এখন বিশ্ববাসীর তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের দিকে। দেখার বিষয়, পাকিস্তানের এই শান্তি ও সংযমের আহ্বানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান শেষ পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয় কি না, নাকি চরম সামরিক জেদের বশবর্তী হয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক ভয়াবহ, দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।