নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে শীর্ষ এই দুই বিজেপি নেতার কণ্ঠে শোনা গেছে চরম বার্তা। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় এলে সিন্ডিকেটরাজ এবং মাফিয়াতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে ভোটের আগেই নির্দিষ্ট অপরাধীদের স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণেরও অভূতপূর্ব পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি প্রতিটি নির্বাচনী জনসভাতেই রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট এবং মাফিয়ারাজের বিস্তর অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মোদী এবং শাহ।
তাদের প্রচারণার মূল সুর ছিল, বিজেপি সরকার গঠন করলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতির পাশাপাশি এবার অপরাধীদের ‘সবকা হিসাব’ বা কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটিতে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের কান খুলে শুনে রাখা উচিত, তারা যেন ২৩ তারিখ ভোটের দিন কোনোভাবেই নিজেদের ঘর থেকে বাইরে না বেরোয়।
যদি তারা বাইরে এসে কোনো প্রকার অশান্তি বা গোলমাল সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে আগামী ৪ মে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর তাদের কেউই রক্ষা করতে পারবে না এবং আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর ঠিক আগে গত রোববার বাঁকুড়া জেলায় আয়োজিত অপর এক নির্বাচনী জনসভাতেও একই ধরনের কড়া সুর শোনা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠে। তিনি সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলার জনগণই মূলত সবচেয়ে বড় শক্তি এবং তারা আর কোনো অন্যায় ও অবিচার সহ্য করবে না, কারণ সবাই এখন রাজ্যে পরিবর্তন চাইছে।
এলাকার সিন্ডিকেট ও দুষ্কৃতীদের শেষবারের মতো সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামী ২৯ এপ্রিলের আগেই যেন তারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে, আর তা সম্ভব হলে ২৩ তারিখের আগেই করা উচিত।
কারণ, ৪ মের পর কোনো অপরাধীকেই আর রেহাই দেওয়া হবে না। বিশেষ করে বিষ্ণুপুরের মাফিয়া এবং কয়লা পাচারকারীদের প্রতি কড়া নজর রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ চিরতরে বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন।
এছাড়া কুলটির ওই একই সভা থেকে রাজ্যে অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুটিও নতুন করে সামনে আনেন অমিত শাহ। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ৫ মে বিজেপিকে সরকার গড়ার সুযোগ দিন।
এরপর রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে বাংলা থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সামগ্রিকভাবে, ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন আগ্রাসী ও কঠোর বার্তা রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।