প্রাথমিক তদন্ত এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি ছোড়ে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং তিনি আত্মরক্ষার কোনো সুযোগই পাননি।
নিহত আফ্রিদিকে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাঈদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ওই অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই রোমহর্ষক ঘটনাটিকে একটি সুপরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে জোরদার কাজ শুরু করেছেন।
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটছে। এই ধারাবাহিকতায় গত মাসে দেশটির লাহোর শহরের একটি টেলিভিশন কেন্দ্রের বাইরে লস্কর-ই-তৈয়বার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৬৭ বছর বয়সি আমির হামজার ওপরও অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
তবে ওই অতর্কিত হামলা থেকে তিনি সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। এর আগে, জইশ-ই-মোহাম্মদের বর্তমান প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহারের বড় ভাই মুহাম্মদ তাহির আনোয়ারও পাকিস্তানে অত্যন্ত রহস্যজনক ও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করেন।
সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। এসব ধারাবাহিক গুপ্তহত্যার ঘটনায় গত বছরের মার্চ মাসে লস্কর-ই-তৈয়বার আরেক দুর্ধর্ষ শীর্ষ নেতা আবু কাতাল ওরফে কাতাল সিন্ধির নামও উল্লেখযোগ্য।
তিনি পাকিস্তানের ঝিলাম অঞ্চলে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে প্রাণ হারান। কাতাল সিন্ধিও ছিলেন ভারতের মুম্বাইয়ে সংঘটিত ভয়াবহ ২৬/১১ হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
এছাড়া, ২০২৪ সালে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলারও প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ওই নৃশংস হামলায় অন্তত ৯ জন নিরপরাধ মানুষ নিহত এবং ৩৩ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের এমন রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রার জন্ম দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো গভীর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।