গত সোমবার সন্ধ্যায় দেশটির অন্যতম প্রধান শহর লাহোরের রিং রোড এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। চোখের পলকে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে বহরের ওই দামি বিএমডব্লিউ গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির নিরাপত্তায় থাকা এমন গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এবং তার বাবা, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক নওয়াজ শরিফ ওই গাড়িবহরটিতেই অবস্থান করছিলেন।
জানা গেছে, তারা ফাজায়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় একটি কর্মসূচি শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিজেদের বাসভবন জাতি উমরায় ফিরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আকস্মিকভাবে প্রটোকল বহরের ওই নির্দিষ্ট গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
তবে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, যে গাড়িটিতে আগুন লেগেছিল, তাতে ভিআইপি কেউ ছিলেন না, শুধু চালক একাই ছিলেন। আগুন লাগার প্রাথমিক পর্যায়েই চালক দ্রুত গাড়ি থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ফলে বড় ধরনের কোনো ট্র্যাজেডি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, মরিয়ম নওয়াজ ও নওয়াজ শরিফ দুজনেই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন এবং সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারিতে থাকা ভিআইপি প্রটোকল বহরের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে লাহোর পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ওই বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়িটিতে আগে থেকেই বেশ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। শুধু তাই নয়, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অতি সম্প্রতি গাড়িটিকে অন্তত দুইবার মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপেও পাঠানো হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই অমীমাংসিত যান্ত্রিক ত্রুটি থেকেই বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা অন্য কোনো কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
তবে দমকল বাহিনী আগুন নেভানোর আগেই বিলাসবহুল গাড়িটির প্রায় সম্পূর্ণ অংশ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের মতো এমন সুরক্ষিত বহরের গাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হলো, তার প্রকৃত কারণ নিখুঁতভাবে উদ্ঘাটন করতে ইতোমধ্যেই লাহোর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিস্তৃত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বহরে এমন যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি কীভাবে যুক্ত হলো বা নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সার্বিক তদন্তে সেই দিকগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।