ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএসএফ সদর দপ্তরের প্রধান ফটকের বাইরে পার্ক করে রাখা একটি অ্যাকটিভা স্কুটারে এই তীব্র বিস্ফোরণটি ঘটে।
বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই বিকট ছিল যে, প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও সেই শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা গেছে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তীব্র শব্দের পরপরই স্কুটারটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং তা দ্রুত পুরো যানে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা সাধারণ যান্ত্রিক দুর্ঘটনার তুলনায় অত্যন্ত অস্বাভাবিক ছিল। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর একাধিক পানিবাহী ইউনিটকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে নিরলস কাজ করতে হয়েছে।
এই আকস্মিক ঘটনায় স্কুটারটির মালিক গুরপ্রীত সিং আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে, আহত গুরপ্রীত সিং পেশায় একজন পণ্য সরবরাহকর্মী। ডেলিভারির কাজের অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিতভাবে বিএসএফ এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে পার্সেল পৌঁছে দিতেন।
গুরপ্রীতের বাবা কাশ্মীর সিং, যিনি নিজেও অতীতে বিএসএফে কর্মরত ছিলেন, সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান যে, তার ছেলে গন্তব্যে পৌঁছে স্কুটার থেকে নামার কয়েক মুহূর্ত পরই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
গুরপ্রীত তার বাবাকে ফোনে জানিয়েছিলেন যে, তার ধারণা বাইরে থেকে কেউ হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার যানটি লক্ষ্য করে কোনো বিস্ফোরক ছুড়ে মেরেছে। তবে তার এই দাবির সত্যতা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কৌর পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, স্কুটারে কীভাবে আগুন লাগল বা এর পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত নাশকতার ছক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছেন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। নিছক কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, উদ্দেশ্যমূলক নাশকতা নাকি কোনো ধরনের বাহ্যিক আক্রমণ-সবগুলো দিকই নিখুঁতভাবে তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
এই উদ্বেগজনক ঘটনার পর বিএসএফ সদর দপ্তরসহ সংলগ্ন সামরিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। এদিকে, এমন একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চলে রহস্যজনক বিস্ফোরণের পর রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।