শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেইজিংয়ের ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্ত, ব্যাপক আতঙ্ক

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

বেইজিংয়ের ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্ত, ব্যাপক আতঙ্ক
ছবি : Collected

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এক অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। শহরের আকাশচুম্বী ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ১০৯ তলা বিশিষ্ট ‘সিটিক টাওয়ার’-এ একটি বিমান সরাসরি আঘাত হেনেছে।

 

শুক্রবার, ২৬ জুন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো রাজধানী জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং ভবনে অবস্থানরত হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ব্রেকিং নিউজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দৃশ্যগুলো বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। হংকং-ভিত্তিক স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে শুক্রবার এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন এই সিটিক টাওয়ারে বিমানটি আছড়ে পড়ার পর সেখানে এক ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এই অকল্পনীয় দুর্ঘটনায় ঠিক কতজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বা কতজন গুরুতর আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

 

উদ্ধারকারী বাহিনী বর্তমানে মানুষের জীবন বাঁচানোর ওপরই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকার যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

 

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, বিধ্বংসী এই বিমানে ঠিক কতজন আরোহী বা ক্রু সদস্য ছিলেন, বিমানটির উড্ডয়নস্থল কোথায় ছিল অথবা এর গন্তব্যই বা কোথায় ছিল-তার কোনো স্পষ্ট তথ্য এখনো আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছায়নি।

 

এমনকি ঠিক কী কারণে এমন একটি সুউচ্চ এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘেরা ভবনে একটি বিমান এভাবে আঘাত হানল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য ও ধোঁয়াশা। এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব, নাকি অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণ-তা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

 

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বেশ কিছু ভয়াবহ ও শিউরে ওঠার মতো ভিডিও ফুটেজ মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এসব ভিডিওতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, একটি বিমান তীব্র বেগে উড়ে এসে ১০৯ তলা বিশিষ্ট সুবিশাল এই ভবনটির একেবারে ওপরের দিকের একটি তলাতে সজোরে আঘাত করছে।

 

আঘাতের মুহূর্তেই বিকট শব্দের সৃষ্টি হয় এবং ভবনের ওই অংশটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরই বিমান ও ভবনের ধ্বংসাবশেষের বড় বড় টুকরো, কাঁচ এবং কংক্রিটের ভারী অংশগুলো বৃষ্টির মতো নিচের ব্যস্ত রাস্তা এবং আশপাশের সবুজ চত্বরগুলোতে আছড়ে পড়তে শুরু করে।

 

এই প্রলয়ঙ্কারী দৃশ্য দেখে নিচের রাস্তায় থাকা পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য ফুটেজগুলোতে দেখা যায়, সুউচ্চ ভবনটির ভেতর থেকে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষজন সিঁড়ি বেয়ে এবং জরুরি বহির্গমন পথ দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

 

স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং চিকিৎসা কর্মীরা একযোগে একটি বিশাল উদ্ধারযজ্ঞ পরিচালনা করছেন। পুরো সিটিক টাওয়ার এবং এর আশপাশের বিশাল এলাকা সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে এবং উদ্ধারকাজে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে।

 

ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং ভবনের ভেতরে আটকে পড়া কোনো ব্যক্তি থাকলে তাদের উদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জরুরি সেবার কর্মীরা। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই বেইজিং মিউনিসিপ্যাল সরকার তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জরুরি অবস্থা বা ইমার্জেন্সি প্রোটোকল সক্রিয় করেছে।

 

শহরের প্রধান হাসপাতালগুলোকে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় বা হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দে পুরো বেইজিং শহরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার জন্য সরকারিভাবে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

 

এছাড়া, ওই এলাকার সমস্ত যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ চাপা পড়ে থাকলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

 

চীনের রাজধানীর বুকে এমন একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর শঙ্কা ও শোকের ছায়া তৈরি করেছে। সিটিক টাওয়ার, যা স্থানীয়ভাবে ‘চায়না জুন’ নামেও সুপরিচিত, বেইজিংয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজার হাজার মানুষ এই ভবনে পেশাগত কাজ করেন।

 

ফলে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সবার মধ্যেই চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। চীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ঘটনার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন বেইজিংয়ের এই উদ্ধারকাজ এবং পরবর্তী সরকারি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।

 

- সিএনএন