রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনে জড়িতরা বিদেশি মদদপুষ্ট জামায়াতপন্থি মৌলবাদী - শুভেন্দু

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

আন্দোলনে জড়িতরা বিদেশি মদদপুষ্ট জামায়াতপন্থি মৌলবাদী - শুভেন্দু
ছবি : Collected

ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার জন্য আয়োজিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের মাঝে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক সহিংসতা নতুন এক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

এই সহিংসতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী গোষ্ঠীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছেন, রাজপথে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া এসব ব্যক্তি কোনোভাবেই সাধারণ ও নিরীহ শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী গোষ্ঠীর সুপ্রশিক্ষিত সদস্য।

 

এই ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির গোপন ইন্ধন বা অবৈধ আর্থিক সহায়তা ছিল কি না, তা দেশের উচ্চপদস্থ তদন্তকারী সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

 

রোববার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মুখ্যমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভাবনীয় কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর সমর্থিত এক সুবিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

 

পরিস্থিতি একপর্যায়ে চরম আকার ধারণ করলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধ্য হয়ে ব্যাপক লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

 

রাজ্যের সদ্য প্রণীত অত্যন্ত কঠোর গুন্ডামি দমন আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা এই বর্বরোচিত সহিংসতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।

 

এর আগে রাজ্য বিধানসভার এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনেও তিনি ঠিক একই ধরনের জোরালো দাবি তুলেছিলেন। সেখানে তিনি সুস্পষ্ট তথ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য গোয়েন্দা প্রমাণাদি থেকে এখন পর্যন্ত যে প্রায় ৭০ জন দুর্বৃত্তকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের কেউই প্রকৃত অর্থে শিক্ষার্থী নন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী মূল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সামান্যতম কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই।

 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অভাবনীয় সহিংসতার পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট ও গভীর রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। তার দাবি, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের নেওয়া কিছু যুগান্তকারী প্রশাসনিক ও আইনি সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ থেকেই একটি বিশেষ কট্টরপন্থি গোষ্ঠী এই সহিংসতা পরিকল্পিতভাবে উসকে দিয়ে থাকতে পারে।

 

রাজ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি সনদ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সর্বোপরি পরিবেশ সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক দৃশ্যমান ও কার্যকরী পদক্ষেপের কারণে একটি নির্দিষ্ট মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

 

সরকারের ধারণা, সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই তারা নিরীহ ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজ্যে চরম অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির হীন পাঁয়তারা করছে। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বিক্ষোভ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক কর্তব্যরত সাংবাদিকের ওপরও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে।

 

তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ওই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে তাদের প্রাণনাশের অপচেষ্টা চালানো হয়, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর এক নগ্ন ও অমার্জনীয় হস্তক্ষেপ।

 

সার্বিক এই নৈরাজ্যজনক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধ স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার একটি যুগান্তকারী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সোমবার লোকসভায় একটি কঠোর আইনি সংশোধনী বিল উত্থাপনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

 

প্রস্তাবিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলোর দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে। পাশাপাশি, যেকোনো অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

 

এছাড়া, বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার কঠোর বিধান এই নতুন বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, দেশজুড়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে লাখো শিক্ষার্থীর দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই শিক্ষাব্যবস্থায় হারানো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফেরাতে এই যুগান্তকারী সংশোধনী আনা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, এই অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গত শনিবার তাদের দীর্ঘ ৩৬ দিনের টানা রাজপথের আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

 

দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত তাদের অন্যান্য যৌক্তিক দাবির প্রতি সরকার শেষ পর্যন্ত লিখিত সম্মতি জ্ঞাপন করার পরই তারা জনস্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

- টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া