প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, "যখন ভারত 'গ্লোবাল সাউথ' বা বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলোর স্বপ্নকে দিশা দেখাচ্ছে, তখন আফ্রিকাকে শুধুমাত্র কাঁচামালের উৎস হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং মূল্য সংযোজন এবং স্থিতিশীল উন্নয়নে আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দিতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত। বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার ভূমিকাকে ভারত সম্মান করে।" মোদী স্পষ্ট করে বলেন, ভারতের উন্নয়নের মডেল প্রমাণ করেছে যে 'গ্লোবাল সাউথ' নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়তে এবং নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তিনি বলেন, "আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আসুন আমরা এমন এক ভবিষ্যৎ তৈরি করি যা ক্ষমতা দ্বারা নয়, অংশীদারিত্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত হবে; আধিপত্য দ্বারা নয়, সংলাপ দ্বারা; বর্জন দ্বারা নয়, সাম্য দ্বারা।"
আফ্রিকায় ভারতের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, "আফ্রিকায় আমাদের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের মোট মূল্য ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু এর আসল মূল্য হল যৌথ প্রবৃদ্ধি এবং অভিন্ন লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। আমরা স্থানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনকে সমর্থন জুগিয়ে চলেছি।" দ্বিপাক্ষিক স্তরে, মোদী নামিবিয়াকে উন্নত ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য 'ভাবাট্রন' রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি, ভারতের 'জন ঔষধি' কর্মসূচির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ পাওয়ার সুযোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস (ইউপিআই) ভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু হলে দ্রুত অর্থ লেনদেন সম্ভব হবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মোদী বলেন, "নামিবিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ভারত গর্বের সাথে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।" এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন।
----