ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে একজন প্রথম বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র হোস্টেলে আত্মহত্যা করেছেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর আগে ওই ছাত্র সিনিয়রদের বিরুদ্ধে অকথ্য অত্যাচার বা ‘র্যাগিং’-এর অভিযোগ করে গেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রটি একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন, যেখানে তিনি বেশ কয়েকজন সিনিয়র ছাত্রের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। ভারতে আইনত নিষিদ্ধ হলেও, র্যাগিং নামক এই ভর্তি-পরবর্তী নির্যাতন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই একটি ভয়ঙ্কর সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে, যা প্রায়শই শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
এই ঘটনার পর, পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া এবং র্যাগিং-বিরোধী কঠোর আইনে একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে। অভিযুক্ত সিনিয়র ছাত্রদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং পুলিশি তদন্তে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে র্যাগিংয়ের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে নিয়ে এল। নতুন শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে কলেজ প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং র্যাগিং-বিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে দেশব্যাপী নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজ এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে।