সোমবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তবে সম্মেলনের মূল পর্বে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতা যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "এক শতাব্দীতে অদৃশ্য পরিবর্তন এবং উত্তাল বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যখন একবাদ এবং আধিপত্যবাদী আচরণ আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তখন মানবতা আবারও একটি জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।"
তিনি চীন-ইইউ সম্পর্ককে বহুমেরু বিশ্বের দুটি প্রধান শক্তি, বিশ্বায়নের সমর্থক দুটি বৃহৎ বাজার এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ধারক দুটি মহান সভ্যতা হিসেবে অভিহিত করেন। গত ৫০ বছরে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ২.৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৭৮৫.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং দ্বিমুখী বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় শূন্য থেকে ২৬০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এই সম্পর্কের গভীরতার প্রমাণ। তবে সহযোগিতার পাশাপাশি সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। মুখপাত্র উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কেউ কেউ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে 'অংশীদার-প্রতিযোগী-প্রতিদ্বন্দ্বী' হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরঞ্জিত করছেন। এছাড়া, বাণিজ্য এবং ইউক্রেন ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে, যা সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
চীন আশা করছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে উভয় পক্ষ গত ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মতপার্থক্য ভুলে আগামী দিনের সহযোগিতার জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করবে। এই শীর্ষ সম্মেলন চীন-ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সমগ্র বিশ্ব।
---