কোনো প্রকার অপরাধের প্রমাণ ছাড়াই স্রেফ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে উন্মত্ত জনতার বিচারহীনতার সংস্কৃতি বা 'মব লিঞ্চিং'-এর বলি হতে হলো এই অভিবাসী শ্রমিককে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন রামনারায়ণকে চুরির অভিযোগে প্রথমে আটক করে স্থানীয় একদল যুবক। এরপর তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন শুরু করা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে বারবার তার পরিচয় ও গ্রামের বাড়ি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে রামনারায়ণ নিজের পরিচয় দেওয়ার আগেই তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ করা হয় এবং লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে পুলিশি তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নিহত যুবকের কাছে কোনো চুরির মালামাল ছিল না এবং তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী কোনো অপরাধের রেকর্ডও পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে রামনারায়ণের শরীরে ৮০টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে তার মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মুরলি, প্রসাদ, অনু, বিপীন এবং আনন্দন; যারা সবাই আত্তাপাল্লাম গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
নিহত রামনারায়ণের পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে দিন কাটাচ্ছে। তার ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। তার চাচাতো ভাই শশীকান্ত আর্তনাদ করে বলেন, “রামনারায়ণ অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন এবং পরিবারের সচ্ছলতার জন্য কেরালায় কাজ করতে গিয়েছিলেন।
বাংলাদেশি সন্দেহে তাকে বিনা দোষে জীবন দিতে হলো।” তিনি ছত্তিশগড় ও কেরালা সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য উপযুক্ত আর্থিক সাহায্য ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাটি ভারতে অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং পরিচয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার চিত্রকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।