পাকিস্তানের জরুরি সেবা সংস্থা ও উদ্ধারকারী দলের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু ও পাঁচজন নারী রয়েছেন, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, পণ্যবাহী ট্রাকটি ২৩ জন যাত্রী নিয়ে ইসলামাবাদ থেকে ফয়সালাবাদের উদ্দেশে যাচ্ছিল।
ট্রাকের আরোহীরা মূলত একটি জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। শীতকালীন ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বা ‘লো ভিজিবিলিটি’র কারণে প্রধান মহাসড়ক বা মোটরওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। ফলে চালক বিকল্প পথ হিসেবে স্থানীয় একটি সড়ক ব্যবহার করছিলেন। পথিমধ্যে কোট মমিন তহশিল এলাকায় পৌঁছালে চালক ঘন কুয়াশায় পথের দিশা হারিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রাকটি গালাপুর সেতু থেকে নিচে একটি শুকিয়ে যাওয়া খালের মধ্যে পড়ে যায়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, খালটি পানিশূন্য থাকলেও ট্রাকটি উল্টে যাওয়ায় যাত্রীরা যানের নিচে আটকা পড়েন এবং তাদের ওপর ট্রাকের ভারী অংশ ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অনেকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই অর্থাৎ রাত ১টা ৪৮ মিনিটের দিকে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত সিভিল হাসপাতাল কোট মমিন-এ স্থানান্তর করা হয় এবং নিহতদের মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শীত মৌসুমে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মহাসড়ক ও প্রধান সড়কগুলোতে ঘন কুয়াশা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা, যা প্রায়ই যান চলাচলকে স্থবির করে দেয় এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জাতীয় মহাসড়ক ও মোটরওয়ে পুলিশের তথ্যানুযায়ী, দুর্ঘটনার দিন সকালেও এম-১, এম-২, এম-৩, এম-৪ এবং এম-১১ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘন কুয়াশার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এতে প্রাণহানি একটি নিয়মিত উদ্বেগজনক চিত্রে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণভাবে যান চলাচল, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন না মানাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এর আগেও চলতি মাসের শুরুতে পাঞ্জাবের তালাগাং জেলায় একটি বাস খাদে পড়ে পাঁচজন যাত্রী প্রাণ হারান এবং ২৪ জন আহত হন। এ ছাড়া গত ৩১ ডিসেম্বর ঝং-ফয়সালাবাদ সড়কে একটি বাস ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হলেও কুয়াশা ও অসতর্কতার কারণে মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব হচ্ছে না।