ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, মহারাষ্ট্রের স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নিতেই আজ সকালে একটি বিশেষ চার্টার্ড বিমানে চড়ে রাজধানী মুম্বাই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অজিত পাওয়ার।
বারামতি মূলত পাওয়ার পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বিমানটি বারামতি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তার আগেই এই বিপত্তি ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলটি মুম্বাই থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ডিজিসিএ-এর প্রাথমিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিমানটিতে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার ছাড়াও তাঁর দুইজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং দুইজন বিমানচালক ছিলেন।
অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ একটি বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করেছে পুরো কাঠামোটিকে। অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
তিনি ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-এর একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ২০২৩ সালে মূল দল থেকে বেরিয়ে এসে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর সঙ্গে জোট গঠন করেন এবং রাজ্য সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “মহারাষ্ট্রের বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনার খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যারা এই দুর্ঘটনায় তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা।
এই গভীর শোকের মুহূর্তে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো যেন ধৈর্য ও সাহস ধারণ করতে পারে, সেই প্রার্থনা করছি।” এই দুর্ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ভারতের উত্তর প্রদেশে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল, যদিও সেই ঘটনায় দুই পাইলট অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেয়েছিলেন।
তবে ভারতের বিমান চলাচলের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়টি বেশ উদ্বেগজনক। এর আগে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের ওপর আছড়ে পড়েছিল, যা গত এক দশকের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।