অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অপ্রত্যাশিত এই ঘটনায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাতের পরপরই ‘সুখোই-৩০ এমকেআই’ মডেলের ওই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং সামরিক রাডারের সব ধরনের রেডিও যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিখোঁজ হওয়া এই সামরিক বিমান এবং এর ভেতরে থাকা বৈমানিকদের সন্ধানে ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে ব্যাপক মাত্রায় জরুরি ও নিবিড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন।
উদ্বেগজনক এই নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদরদপ্তর থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তবে তাৎপর্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ওই বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নিখোঁজ হওয়া যুদ্ধবিমানটি আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে তার পূর্বনির্ধারিত ও নিয়মিত উড্ডয়ন শুরু করেছিল।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিমানের উড্ডয়ন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকলেও, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটের পর পাইলটদের সঙ্গে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণকক্ষের আর কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
ঠিক কী কারণে, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে, নাকি অন্য কোনো পারিপার্শ্বিক বা আবহাওয়াগত প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিমানটি রাডারের সংযোগের একেবারে বাইরে চলে গেল, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
তবে বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, নিখোঁজ যুদ্ধবিমান এবং এর দায়িত্বরত পাইলটদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশ ও ভূমি-উভয় পথেই সর্বাত্মক উদ্ধার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের যেকোনো নতুন অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে। নিখোঁজ হওয়া এই ‘সুখোই-৩০ এমকেআই’ মডেলের যুদ্ধবিমানটি মূলত রাশিয়ার তৈরি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এবং উচ্চমাত্রায় কাস্টমাইজড সামরিক যান, যা ভারতীয় সামরিক বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী বিশেষভাবে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগের দিকে প্রথম নকশা করা এই বহুমুখী যুদ্ধবিমানটি বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক মেরুদণ্ড হিসেবে পুরো বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
আকাশপথে শত্রুর যেকোনো ধরনের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ভূমিতে বা আকাশে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই আধুনিক বিমানের সক্ষমতা অতুলনীয়। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভারতের এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরেই সুরক্ষার স্বার্থে এই মডেলের একাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রেখেছে নয়াদিল্লি।
এমন একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার অঞ্চলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাধুনিক সামরিক যুদ্ধবিমান মাঝ আকাশ থেকে হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ভারতের সার্বিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বিশাল ও অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা হিসেবেই বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।