শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রবল সম্ভাবনা, পূর্ণ হতে পারে ৩০টি রোজা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

পাকিস্তানে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রবল সম্ভাবনা, পূর্ণ হতে পারে ৩০টি রোজা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাস শেষে আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপনের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে যে, এ বছর দেশটিতে ত্রিশটি রোজা পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সেই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২১ মার্চ শনিবার পাকিস্তানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ উর্দুর এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই পূর্বাভাসের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নেই। ফলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এ বছর পুরো ত্রিশ দিনই সিয়াম সাধনা করতে হতে পারে।

 

পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আনজুম নাজির স্থানীয় গণমাধ্যমকে এই চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ পর্যবেক্ষণের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির (রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

 

ওই দিন দেশের আকাশে খালি চোখে কিংবা যন্ত্রের সাহায্যে ঈদের চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। আনজুম নাজিরের দেওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি সময় অনুযায়ী ঠিক সকাল ৬টা ২৩ মিনিটে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদের জন্ম হবে।

 

ফলে ওই দিন সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে মাত্র বারো ঘণ্টা কয়েক মিনিট। জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, অত্যাধুনিক দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোনো নতুন চাঁদ স্পষ্টভাবে দেখার জন্য এর বয়স অন্তত চৌদ্দ ঘণ্টার বেশি হওয়া অপরিহার্য।

 

সেই বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে বিচার করলে মাত্র বারো ঘণ্টা বয়সের একটি চাঁদ চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব একটি বিষয়। খালি চোখে তো নয়ই, এমনকি শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করেও সেটিকে ওই সন্ধ্যায় শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

 

দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারকো আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই পূর্বাভাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে একই ধরনের তথ্য প্রদান করেছে। সংস্থাটির নিজস্ব মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের সময় শাওয়াল মাসের চাঁদের বয়স হবে আনুমানিক বারো ঘণ্টা একচল্লিশ মিনিট, যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান হওয়ার জন্য কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।

 

এই সমস্ত বৈজ্ঞানিক উপাত্ত ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে আনজুম নাজির পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ বছর পবিত্র রমজান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে প্রবল।

 

আর সেই বৈজ্ঞানিক হিসাবটি সঠিক হলে আগামী ২১ মার্চ দেশটিতে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে তিনি পরিশেষে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস যাই হোক না কেন, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী এই বিষয়ে একেবারে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি আসবে কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি বা রুয়েত-ই-হিলাল কমিটির পক্ষ থেকেই।