মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা

কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হলে দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে, জানালেন উপদেষ্টা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হলে দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে, জানালেন উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদে কোনো ধরনের রদবদল আনা হবে কি না, সেই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কাজের অগ্রগতি এবং তাঁদের ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করছে বলে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

 

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন কোনো উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে বা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পালন করতে পারছেন না, তবে সরকার ও প্রশাসনের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সময় দপ্তর পুনর্বণ্টন কিংবা মন্ত্রিসভায় একেবারে নতুন মুখ যুক্ত করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

 

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে অবস্থিত তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, প্রশাসনিক সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।

 

সরকারের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা আনয়ন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার নিরলস প্রয়াসের অংশ হিসেবেই এমন গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে নিশ্চিত করেছেন।

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন চলছে যে, বর্তমান সরকারের মেয়াদ ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক কাঠামোতে এবং মন্ত্রিসভায় একটি বড় ধরনের রদবদল বা পরিবর্তন আসতে পারে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও নানা ধরনের জল্পনাকল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। এই গুঞ্জনের বাস্তব ভিত্তি আসলে কতটুকু-সাংবাদিকদের এমন সরাসরি ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা অত্যন্ত খোলামেলাভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

 

তিনি জানান যে, সুনির্দিষ্ট ১৮০ দিনের মাথায় সত্যিই কোনো রদবদল হবে কি না, সে সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট আগাম তথ্য জানেন না। বিষয়টি তিনিও মূলত সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও গণমাধ্যমের খবর থেকেই জেনেছেন।

 

তবে তিনি এই জল্পনাকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে সরাসরি নাকচ না করে বরং মন্ত্রিসভার সদস্যদের কার্যক্রম মূল্যায়নের একটি চলমান ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা কেবল ১৮০ দিন বা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।

 

এই গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের অবতারণা করে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বিগত স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক ও জনবান্ধব সরকারের নীতিগত, আদর্শিক ও কাঠামোগত পার্থক্যের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, একটি স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী বা দুর্বৃত্ত নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা সর্বদা জনসমক্ষে এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, তাদের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই চিরন্তন ও নির্ভুল। এ ধরনের অহংকারী ও জনবিচ্ছিন্ন শাসনব্যবস্থায় সরকার কখনো নিজেদের ভুল বা ব্যর্থতা স্বীকার করে না এবং সেই ভুল সংশোধনের কোনো সৎ উদ্যোগও কখনো গ্রহণ করে না।

 

তারা মনে করে যে, তাদের কোনো পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা বা জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা মানেই হলো নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করা। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই ভ্রান্ত, অহংকারী ও জনবিচ্ছিন্ন চিন্তাধারা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

 

বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকেরা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন যে, জটিল রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যেকোনো সময় ভুলত্রুটি হতে পারে এবং তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়ে দ্রুত সংশোধন করার মানসিকতা একটি সুস্থ, পরিপক্ব ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান শর্ত। বর্তমান প্রশাসন দেশে সেই জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতিই পাকাপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

 

উপদেষ্টা আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও আপামর জনসাধারণের সর্বোচ্চ কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে তাঁর এই বর্তমান মন্ত্রিসভা এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন সময় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী চরম নমনীয়তা এবং অত্যন্ত বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

 

যদি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব নিবিড় মূল্যায়নে কখনো এটি প্রতীয়মান হয় যে, নির্দিষ্ট কোনো দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁর কাজের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল, সফলতা বা নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছেন, তবে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বা কালক্ষেপণ না করে প্রয়োজনীয় ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

 

এই সংশোধনী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বর্তমান সদস্যদের মধ্যেই এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে দায়িত্ব পরিবর্তন করা হতে পারে, অথবা প্রয়োজনে সরকার পরিচালনায় নতুন প্রাণ ও গতিবেগ সঞ্চার করতে সম্পূর্ণ নতুন কোনো মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

 

পরিশেষে, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সরকারের চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় লক্ষ্যের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুনরুল্লেখ করে বলেন, দিন শেষে বর্তমান প্রশাসনের একমাত্র ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ লাঘব করা।

 

দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র ও জাতির স্বার্থে বর্তমান অবস্থার চেয়ে আরও উত্তম, সময়োপযোগী এবং অধিকতর কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ যদি তাঁর সামনে তৈরি হয়, তবে তিনি নিশ্চিতভাবেই দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাবেন।

 

তবে মন্ত্রিসভার এই সম্ভাব্য রদবদল বা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঠিক ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরপরই সংঘটিত হবে, নাকি এর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও মূল্যায়নের স্বার্থে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা রূপরেখা বলা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

সরকারের এই গঠনমূলক ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি ইতিবাচক, গতিশীল ও জনমুখী পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে রাজনৈতিক ও সচেতন মহল গভীরভাবে বিশ্বাস করছে।