শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে - আইনমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০১:২২ পিএম

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে - আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আলোকে বিষয়টিকে উত্থাপন করে তিনি বলেন যে, দেশে প্রচলিত বিচারব্যবস্থা অনুযায়ী আইন তার নিজস্ব স্বাভাবিক গতিতে পরিচালিত হবে।

 

কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের অবস্থান যাই হোক না কেন, দেশের সীমানার ভেতর প্রবেশ করা মাত্রই আইন তার ওপর আইনি কর্তৃত্ব পুরোপুরি প্রয়োগ করবে। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারি আইনি সহায়তা প্রদান কর্মসূচিকে আরও গতিশীল ও প্রসারিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সাথে আইন মন্ত্রণালয়ের এক দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

ওই অনুষ্ঠানে চুক্তি সই পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী দেশের বর্তমান সার্বিক আইনি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

 

এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ এবং প্রস্তুতি ঠিক কী হবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আসাদুজ্জামান এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব আইনি, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক পন্থায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, দেশের কোনো নাগরিক আদালতের বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও যদি তিনি আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান, তবে সেটি তার সাংবিধানিক ও আইনি অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

 

তবে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে এবং এটাই আইনি নীতি। আইন আমাদের যেভাবে এবং যতটুকু কর্তৃত্ব প্রদান করেছে, সরকার ঠিক সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করবে। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কিছু করা বা কাউকে বিশেষ কোনো সুবিধা প্রদান করার কোনো সুযোগ রাষ্ট্রের নেই।

 

পরবর্তী প্রশ্নে যখন জানতে চাওয়া হয় যে, শেখ হাসিনার কাছে বর্তমানে কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই, এমতাবস্থায় তিনি ঠিক কীভাবে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন-তার জবাবে আইনমন্ত্রী অত্যন্ত পেশাদারত্বের সাথে জানান, একজন ভ্রমণকারীর যাতায়াত কিংবা নথিপত্রের প্রশাসনিক জটিলতা সমাধান করা তার নিজস্ব বিষয়।

 

সরকারের বা আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মূলতঃ সেখান থেকে শুরু হয়, যখন তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানা বা আইনি অধিক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন। দেশের সীমারেখায় পা রাখা মাত্রই রাষ্ট্রীয় আইন নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী তার কাজ সম্পন্ন করবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশন আহ্বান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব দেন আইনমন্ত্রী।

 

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের নিয়মিত বা বিশেষ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছে কিনা-এ বিষয়ে সরকারের আইনি ও সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি।

 

আসাদুজ্জামান জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ২ দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়া কিংবা পদত্যাগের পরবর্তী আইনি বিধান অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা আছে।

 

সংবিধানের এই বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বা পদটি খালি হলে সেই তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

 

বর্তমান সংসদীয় কাঠামোর সাথে এই সাংবিধানিক সময়সীমার সামঞ্জস্য ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী জাতীয় সংসদ অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার একটি সাংবিধানিক নিয়ম রয়েছে।

 

হিসাব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে এই ৬০ দিনের নিয়ম এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ৯০ দিনের সময়সীমা একে অপরের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেহেতু নিয়মিত সংসদ অধিবেশন আহ্বানের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সম্পন্ন করা সম্ভব, তাই এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার কোনো তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা দেখছে না সরকার। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাষ্ট্র বা সরকার সিদ্ধান্ত নিলে যেকোনো সময় বিশেষ অধিবেশন ডাকার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।