শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০২:১২ পিএম

শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করে আন্দোলন ও সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যে সিলেটে দুই দিনব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই নতুন রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে ইতোমধ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পারাইচক বাইপাস এলাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সুসজ্জিত বহর পৌঁছালে স্থানীয় সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ সমর্থকেরা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে স্বাগত জানান।

 

জাতীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী জেলা হবিগঞ্জে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক হামলা ও অপ্রীতিকর সংঘাতের পর এই সফরকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যবেক্ষণ মহল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।

 

সিলেট সফরের মাধ্যমে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মূলত জুলাই আন্দোলনের মহান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর নিকট উপস্থিত হয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেবেন।

 

সফরের সূচনাতেই দক্ষিণ সুরমার পারাইচক এলাকায় এক আবেগঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এই ঐতিহাসিক সফরে অংশগ্রহণকারী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেত্রী ডা. মিতুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা সরাসরি গণসংযোগ ও পদযাত্রা কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

 

নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের প্রতি কোণায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও চেতনা পৌঁছে দেওয়া এবং রাজপথের বীর সন্তানদের মহান আত্মত্যাগকে জাতীয় ইতিহাসে অক্ষুণ্ণ রাখাই তাঁদের এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।

 

অন্যদিকে, হবিগঞ্জের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গোলযোগ কিংবা অস্থিতিশীলতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সিলেট মহানগর এবং জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রধান মহাসড়ক এবং পদযাত্রার নির্দিষ্ট রুটগুলোতে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

একই সাথে নিরাপত্তার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সিলেট বিভাগের সীমান্তঘেঁষা ও অভ্যন্তরীণ একাধিক উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে।

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির সিলেট মহানগর শাখার আহ্বায়ক আইনজীবী আব্দুর রহমান আফজল দুই দিনব্যাপী বিস্তৃত কর্মসূচির রূপরেখা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে জানান যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সফর সফল করতে সিলেটের প্রতিটি উপজেলায় ধাপে ধাপে সুসংগঠিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সফরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিবর্গের পরিবারের স্বজনদের সাথে এক আবেগঘন ও মানবিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় উপস্থিত স্বজনদের বেদনাগাথা শোনার পর তাঁদের সার্বিক পুনর্বাসন ও পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পরবর্তীতে বেলা তিনটায় কানাইঘাট উপজেলায় এবং সন্ধ্যায় ওসমানীনগরে বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে জুলাই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

 

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বেলা তিনটায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণে গণসংযোগ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে বিকেল পাঁচটায় গোয়াইনঘাট উপজেলায় এবং রাত সাতটায় ঐতিহ্যবাহী জৈন্তাপুর উপজেলায় পর্যায়ক্রমে পদযাত্রা ও সুধী সমাবেশের মাধ্যমে এই দুই দিনব্যাপী সফর সমাপ্ত হবে।

 

এনসিপি নেতারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের অদম্য প্রতিরোধের ওপর ভিত্তি করেই দেশে এক নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত সূচিত হয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, আহতদের সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং একটি সমতাভিত্তিক মানবিক সমাজ বিনির্মাণেই এনসিপি তাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।