শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

রাজধানীর তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার তিনটি প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

 

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দিনব্যাপী চলা এই সংঘাতের জেরে অন্তত ২০ জন গুরুতর ও মাঝারিভাবে আহত হয়েছেন।

 

আহতদের মধ্যে বিবদমান দুটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থী, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিক এবং একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান রয়েছেন। শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের সহিংসতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

 

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে এই সংঘাত চলে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

 

সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের তালিকা থেকে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে আহত অবস্থায় ধ্রুব, প্রভা, তাওহীদ, তৌহিদুল ইসলাম এবং মো. নাসির নামের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় সংঘাত সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সেখানে আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক এবং আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন মোমিন।

 

এছাড়াও ওই এলাকা থেকে মারুফ, সানাউল্লাহ, ওবায়দুর, কালু, ইউসুফ মোল্লা, সাজিদ, আসিফ, নাজমুল এবং আবু সালেক নামের আরও বেশ কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়।

 

সংঘাতময় এই পরিস্থিতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ও আশপাশের এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক নাজমুল অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আহত হন।

 

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, মাদ্রাসার ভেতরে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় চারদিক থেকে ইটপাটকেল ও কাঁচের টুকরো ছুঁড়তে থাকে সংঘাতে লিপ্ত পক্ষগুলো। একপর্যায়ে একটি ভারী বস্তুর আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

 

পরবর্তীতে স্থানীয়রা ও সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এদিকে, রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনেও একটি অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা এই সামগ্রিক উত্তেজনারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সেখানে হামলার শিকার হয়েছেন লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নেছারুদ্দীন রাব্বি এবং ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ। এই হামলায় সানাউল্লাহ গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

আহত ছাত্রদল নেতা নেছারুদ্দীন রাব্বি গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে শিক্ষা বোর্ডের সামনে স্বাভাবিক আলাপচারিতায় মগ্ন ছিলেন। এমন সময় কিছু দুর্বৃত্ত 'নারায়ে তাকবীর' স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর আকস্মিক ও সশস্ত্র হামলা চালায়।

 

রাব্বি দাবি করেন, হামলাকারীরা সবাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী। অপরদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঢাকা কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শিবিরের সক্রিয় কর্মী তাওহিদুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় জানান, তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান করার সময় ছাত্রদলের একদল উত্তেজিত কর্মী বিনা উসকানিতে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

পরে তার সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এছাড়াও ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আসা ধ্রুব ও প্রভাসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এই রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

 

শিক্ষাঙ্গনে এমন পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো শিক্ষা অঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক সামগ্রিক পরিস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আহত হয়ে অন্তত ২০ জন হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

 

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আহতদের এই তালিকায় ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।

 

তবে অধ্যক্ষ ও সাংবাদিকসহ গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন এখনও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সশরীরে উপস্থিত হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি আহতদের শয্যাপাশে গিয়ে চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।