দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে এই ঘোষণার পরপরই তিনি দলের মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরবেলা বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করা হয়।
দলের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বের হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে এই তথ্য অবহিত করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তাঁর সাথে দলের একাধিক যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করার সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হয়েছেন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, অর্থাৎ দলের চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক বিশেষ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং সংবিধানের গণতান্ত্রিক নীতি সমুন্নত রাখতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবিলম্বে দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হয় যে, প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সাথে সাথেই তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির পদ থেকে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির পদটি যাতে যেকোনো প্রকার রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থাকে এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে সর্বজনীন মর্যাদা রক্ষা পায়, সেই লক্ষ্যেই দলীয় সমস্ত পদ-পদবি ত্যাগ করার এই রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ বহু বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও পরিশীলিত এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে তিনি অত্যন্ত ধীরস্থির, দৃঢ় ও কৌশলী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
দীর্ঘদিন যাবত সফলভাবে দলীয় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি পূর্বে সরকারের বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন। তাঁর এই দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও সাংবিধানিক কাঠামোয় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। জাতীয় সংসদীয় ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত ঐকমত্যের ওপর নির্ভর করে এই সর্বোচ্চ পদ পূরণ করা হয়ে থাকে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এই পদের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে দল ও সরকারের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এই পদক্ষেপে কেবল দলীয় রাজনীতির সীমারেখা অতিক্রম করে পুরো দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এক নতুন গতিশীলতা আনয়ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতির পদের প্রার্থীতা গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের এক দায়িত্বশীল ধারা দৃশ্যমান হলো।
এই রাজনৈতিক পরিবর্তনটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ-সকলের দৃষ্টিই নিবন্ধিত রয়েছে জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচন ও পরবর্তী শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াগুলোর দিকে।