শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে উৎসবমুখর ও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলেন।

 

আইনপ্রণেতাদের বিপুল সমর্থনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটি প্রক্রিয়া শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।

 

নির্বাচনি ফলাফল অনুযায়ী, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই গৌরবময় বিজয় অর্জন করেন।

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রদত্ত আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুসারে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল তিনশত উনপঞ্চাশ জন। এর মধ্যে তিনশত তেতাল্লিশ জন সংসদ সদস্য তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রদত্ত সকল ভোটই বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়।

 

গণনা শেষে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন দুইশত পঞ্চান্নটি ভোট এবং তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদ পেয়েছেন অষ্টআশিটি ভোট। এই প্রক্রিয়ায় ছয়টি ব্যালট পেপার অব্যবহৃত থেকে যায় এবং প্রক্রিয়া চলাকালে প্রযুক্তিগত ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে বিদ্যমান নির্বাচনি আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে চারটি ব্যালট পেপার প্রতিস্থাপন করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন চলাকালে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে অবস্থান করে ব্যালট পেপারে পূর্ণ নাম স্বাক্ষরপূর্বক অত্যন্ত সচেতনতার সাথে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

 

সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রথম ভোটটি প্রদান করেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর পরপরই ক্রমানুসারে ভোট প্রদান করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

পরবর্তীতে অন্যান্য সকল সংসদ সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সর্বপ্রথম রক্তিম গোলাপের তোড়া উপহার দিয়ে আন্তরিক অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যরা একে একে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। এ সময় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিও উপস্থিত সকল সংসদ সদস্য ও জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নির্বাচনকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘ পয়ত্রিশ বছর পর আইনপ্রণেতাদের সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার ভিত্তিকে আরো বেশি সুসংহত করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের জনগণের মধ্যে এই নির্বাচন ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক সাড়া জাগিয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাকে আরো বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।