শুক্রবার, ২১ আগস্ট, সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বঙ্গভবনে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হলেন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্রবীণ নেতা।
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের সুসজ্জিত দরবার হলে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, বিচারপতি, বিদেশি কূটনীতিক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিট।
পিনপতন নীরবতার মাঝে শুরু হয় রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মূল আনুষ্ঠানিকতা। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পুরো শপথ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুরূপে পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি প্রথমে শপথ পাঠের আনুষ্ঠানিক অনুমতি গ্রহণ করেন এবং এরপর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধীর ও বলিষ্ঠ কণ্ঠে দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি অবিচল আস্থা ও আনুগত্য প্রদর্শনের শপথ বাক্য পাঠ করেন। মৌখিকভাবে শপথ বাক্য পাঠ শেষে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ বইতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের স্বাক্ষর লিপিবদ্ধ করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, তার এই স্বাক্ষরটি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার কর্তৃক সত্যায়িত করা হয়। এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজের গুরুদায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন।
তার এই দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তটি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক মহাসচিব ও প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার, ২১ আগস্ট, সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বঙ্গভবনে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর, মর্যাদাপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণ এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের গভীর মনোযোগের কেন্দ্রে থাকা এই শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক রীতিনীতি সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে এই দিনটি দেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি কূটনীতিক এবং সমাজের বিশিষ্ট অতিথিবর্গের উপস্থিতিতে এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সন্ধ্যা সাতটা সাঁইত্রিশ মিনিট, ঠিক সেই মুহূর্তে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার, সাংবিধানিক রীতি ও বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সমগ্র শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ বাক্য পাঠ করার জন্য নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। পিনপতন নীরবতার মধ্যে দিয়ে সমগ্র দরবার হলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় মূল মঞ্চের দিকে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ধীরস্থির, স্পষ্ট ও জোরালো উচ্চারণে শপথ বাক্য পাঠ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দেশের পবিত্র সংবিধানের প্রতি অবিচল আস্থা ও গভীর আনুগত্য প্রকাশ করে এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের সম্মান, মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি এই শপথ গ্রহণ করেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি শপথ বাক্য পাঠ শেষে আনুষ্ঠানিকতার পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হন।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পরপরই সংরক্ষিত লিখিত দলিলে বা শপথ বইতে তিনি নিজ হাতে স্বাক্ষর প্রদান করেন। এরপর দেশের জাতীয় সংসদের সম্মানিত স্পিকার সেই শপথপত্রে প্রতিস্বাক্ষর করে তা চূড়ান্তভাবে সত্যায়িত করেন।
এর মাধ্যমে আইনি ও সাংবিধানিক সকল প্রক্রিয়া ও বাধ্যবাধকতা সফলভাবে সম্পন্ন করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতির আসনে সমাসীন হলেন। রাষ্ট্রপতির এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ঠিক পরপরই বঙ্গভবনের একই মঞ্চে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাজের সুবিধার্থে এবং মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
নতুন রাষ্ট্রপতির হাত ধরে দেশের মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আরও চারজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী। শপথ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে এই নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে আরও বেশি গতিশীলতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা আনার লক্ষ্যে এই নতুন সদস্যদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক ড. আব্দুল মঈন খান। এছাড়াও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ আন্দালিব রহমান পার্থ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীও মন্ত্রিসভায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি, রশিদুজ্জামান মিল্লাত পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্ষদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
এই চারজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সার্বিক কার্যক্রমে গতি আনতে এবং নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালনের জন্য দুজন নতুন প্রতিমন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করেছেন। এই নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীরা হলেন হুমায়ুন কবির এবং শামীম কায়সার।
দেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের উভয়কেই সাংবিধানিক নিয়ম ও রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার মেনে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই নতুন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বর্তমান মন্ত্রিসভা আগের চেয়ে আরও বেশি সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী হলো।
সার্বিকভাবে, বঙ্গভবনের দরবার হলের এই সন্ধ্যাটি ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা এখন দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই বর্ণাঢ্য ও সুশৃঙ্খল আয়োজনটি জাতীয় জীবনে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে দীর্ঘকাল লিপিবদ্ধ থাকবে।