মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ জিয়া উদ্যানে উপস্থিত হয়ে তিনি এই বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির দীর্ঘ আটচল্লিশ বছরের পথচলায় এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এক ভিন্ন মাত্রিকতা ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই শ্রদ্ধা নিবেদন দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজধানী ঢাকার জিয়া উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকা এক উৎসবমুখর এবং একইসঙ্গে ভাবগম্ভীর পরিবেশে পরিণত হয়।
সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে সমবেত হতে শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটির আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর আনন্দ এবং দলের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা প্রকাশ পায় প্রতিটি মিছিল ও স্লোগানে।
সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে পৌঁছালে দলীয় শীর্ষ নেতারা তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। এরপর তিনি প্রথমে দলের প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি আধুনিক বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
এ সময় স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়, বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ এবং দেশ গঠনে এই দুই মহান নেতার অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এরপর ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়, যেখানে একইসঙ্গে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি প্রার্থনা করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত দলীয় নেতা ও সরকারের মন্ত্রীরা গণমাধ্যমের সামনে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। নেতারা অত্যন্ত জোরালো ভাষায় জানান যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সততা ও রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত, আধুনিক ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তারা উল্লেখ করেন যে, দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে নিরন্তর সংগ্রাম বেগম খালেদা জিয়া আজীবন করে গেছেন, সেই অসমাপ্ত কাজগুলোকে পূর্ণতা দেওয়াই বর্তমান সরকার ও দলের প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশের জনগণের হৃত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান তারা। প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
এছাড়াও দলের সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের অগণিত নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়।
পরিশেষে, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনটি কেবল অতীতকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে শপথ নেওয়ার একটি মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এবং বিএনপি একইসঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করার যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে, আজকের এই ঐক্যবদ্ধ শ্রদ্ধা নিবেদন তারই একটি ইতিবাচক বহিঃপ্রকাশ।
জিয়াউর রহমানের উৎপাদনমুখী রাজনীতির দর্শন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, এমনটাই দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করছেন দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশের আপামর জনসাধারণ।