বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই শীর্ষ নীতিনির্ধারণী সভার দিকে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত গভীর নজর থাকে গোটা দেশের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদদের।
কারণ, এখান থেকেই চূড়ান্ত অনুমোদন পায় জাতীয় উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং জনগণের কল্যাণে গৃহীত নানাবিধ বৃহৎ ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, বুধবার সকাল ঠিক দশটায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপরিসর সভাকক্ষে এই পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সভার বিষয়টি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য ডেপুটি প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তাঁর প্রদান করা তথ্যানুসারে, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি ও কার্যবিবরণী মেনেই অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার পরিবেশে এই সভার কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক মূলত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনার সর্বোচ্চ সরকারি কর্তৃপক্ষ।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক অবস্থার সার্বিক উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ের দারিদ্র্য বিমোচন, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সারা দেশজুড়ে আধুনিক অবকাঠামোগত প্রসারের জন্য যেসব মেগা প্রকল্প বা সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তার সবগুলোরই চূড়ান্ত আইনি ও প্রশাসনিক ছাড়পত্র মেলে এই একনেক সভার গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিতকে আরও মজবুত এবং যুগোপযোগী করতে গভীরভাবে বদ্ধপরিকর। সেই মহৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আজকের এই চলমান সভাটি বিশেষ জাতীয় তাৎপর্য বহন করছে বলে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা দৃঢ়ভাবে মনে করছেন।
সাধারণত একনেকের এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীগণ, পরিকল্পনা কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবগণ উপস্থিত থাকেন। আজকের চলমান এই শীর্ষ বৈঠকেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি।
দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানী শহর পর্যন্ত সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার নিমিত্তে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় যেসব নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করে কিংবা চলমান প্রকল্পগুলোর সংশোধনী জমা দেয়, মূলত সেগুলো নিয়েই এই সভায় অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ ও যৌক্তিক আলোচনা করা হয়।
প্রতিটি প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয়, বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়কাল, পরিবেশগত প্রভাব এবং সর্বোপরি দেশের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল-এই সমস্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চুলচেরা মূল্যায়ন করার পরেই কেবল চূড়ান্ত অনুমোদনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো, যেমন রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি কিংবা আল জাজিরা, যেকোনো দেশের রাষ্ট্রীয় নীতি বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জটিল প্রক্রিয়াকে যেভাবে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও গভীর বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে সারা বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করে থাকে, আজকের এই রাষ্ট্রীয় সভার অভ্যন্তরীণ গুরুত্বও ঠিক তেমনই ব্যাপক ও বহুমাত্রিক।
একটি প্রতিশ্রুতিশীল ও দ্রুত বর্ধনশীল উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল রাখা এবং আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য একনেকের প্রতিটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্তই অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।
আজকের এই চলমান গুরুত্বপূর্ণ সভায় ঠিক কোন কোন নতুন মেগা প্রকল্প, মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচি বা জনকল্যাণমূলক বহুমুখী উদ্যোগ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তা নিয়ে সমগ্র দেশবাসীর মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক ও আশাবাদী কৌতূহল সর্বক্ষণ বিরাজ করছে।
রাষ্ট্রীয় এই শীর্ষ বৈঠকটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, সাধারণত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সভার বিস্তারিত সিদ্ধান্তসমূহ, প্রকল্পগুলোর পেছনের যুক্তি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।
ওই আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমেই অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর সর্বমোট আর্থিক মূল্য, বিদেশি ঋণ বা সহায়তার পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের ধাপে ধাপে অগ্রগতি ও রূপরেখা সম্পর্কে জাতিকে সম্যক ও পরিষ্কার ধারণা প্রদান করা হয়ে থাকে।
আপাতত, বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অত্যন্ত নিবিড়, তথ্যনির্ভর ও গঠনমূলক পর্যালোচনা-মুখর পরিবেশে সভার ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নেওয়া এই মঙ্গলজনক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে আরও একধাপ শক্তভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলেই সর্বস্তরের জনগণের দৃঢ় প্রত্যাশা।
এই সভার মাধ্যমে গৃহীত সুচিন্তিত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের পথে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে দৃঢ়ভাবে আশা করা যায়।