শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে জামায়াত নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

রাজধানীতে জামায়াত নেতার রহস্যজনক মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ (৬৫) পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও হোমিও চিকিৎসক ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর রোকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তার নিথর দেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ডাকাতিজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করলেও নিহতের স্বজনরা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা আনোয়ার উল্লাহর বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।

 

এরপর তারা আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। দুর্বৃত্তরা আনোয়ার উল্লাহর মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বাসা থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চোর চক্র ঘরে প্রবেশ করে স্বামী-স্ত্রীকে বেঁধে রেখে মালামাল লুট করে।

 

এ সময় শ্বাসরোধে আনোয়ার উল্লাহর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে নিহতের পরিবার এই ঘটনাকে কেবলই সাধারণ চুরি বা ডাকাতি হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তদের মূল লক্ষ্য ছিল আনোয়ার উল্লাহকে হত্যা করা এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই মালামাল লুটের নাটক সাজানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা একে একটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

 

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সজ্জন ব্যক্তি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এক যৌথ শোকবাণীতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

তারা অভিযোগ করেন, আনোয়ার উল্লাহর মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকে হত্যার মাধ্যমে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।