শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টন এলাকায় অবস্থিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীর ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

 

‘শারমিন একাডেমি’ নামক ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে আটক করা হয়। মিরপুর এলাকার একটি বাসভবনে অভিযান চালিয়ে পল্টন থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী এবং বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি সকলের নজরে আসে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক দুইজন শিক্ষককে একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর চড়াও হতে দেখা যায়।

 

ছড়িয়ে পড়া ওই দৃশ্যটিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাক পরিহিত আনুমানিক তিন থেকে চার বছর বয়সী এক শিশুকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি ও একজন নারী শিশুটিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছেন।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরা বা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, চশমা ও ছাই রঙের গেঞ্জি পরিহিত এক ব্যক্তি শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করছেন। তার পাশেই গোলাপি রঙের শাড়ি পরিহিত এক নারী শিশুটির হাত শক্ত করে ধরে রেখেছেন, যাতে সে নড়াচড়া করতে না পারে।

 

কিছুক্ষণ পরপর ওই ব্যক্তি শিশুটির দিকে তেড়ে আসছেন এবং আঘাত করছেন। ভিডিওচিত্রের এক পর্যায়ে দেখা যায়, ওই নারী শিশুটিকে একটি টেবিলের সামনে বসিয়ে বারবার চড় মারছেন এবং উচ্চস্বরে ধমক দিচ্ছেন।

 

ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, পুরুষ শিক্ষকটি হাতে থাকা একটি স্ট্যাপলার বা পিন আটকানোর যন্ত্র নিয়ে শিশুটির মুখের দিকে তাক করে ভীতি প্রদর্শন করছেন। ফুটেজে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছিল।

 

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু নির্যাতনের এই দৃশ্যটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তারা তৎপর হয়ে ওঠেন এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাস্থল শনাক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নয়াপল্টন এলাকার ‘শারমিন একাডেমি’ নামক ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও কয়েকজন শিক্ষককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় তলব করা হয়।

 

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান এ বিষয়ে বলেন, ভিডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার তদন্তে নামে।

 

নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করা হয়েছে এবং শুক্রবার ভোরে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শিশুদের ওপর এহেন নিষ্ঠুর আচরণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।