তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা তৈরির পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিকিৎসা সামগ্রীর এই বিস্তৃতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
দেশের স্বাস্থ্যখাতের অতীত দুরবস্থার কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত সতেরো বছরে পূর্ববর্তী সরকারগুলো দেশের স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র, চিকিৎসায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক যন্ত্র, প্রয়োজনীয় টিকা কিংবা সাধারণ সুচ পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে রেখে যায়নি।
এমন এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় বর্তমান সরকার হামের মতো ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। আগামী ২০ জুনের মধ্যে সাধারণ মানুষের শরীরে হামের প্রতিরোধক ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুম মোকাবিলায় সরকারের আগাম প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ অনুদান হিসেবে এক লাখ শিরাপথে প্রয়োগযোগ্য তরল বা স্যালাইন প্রদান করেছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধ মজুতে ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য এক লাখ স্যালাইন সংরক্ষিত রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে আরও প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ হাজার স্যালাইন জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করা আছে।
তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লে হঠাৎ করে এই তরল ওষুধের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করেছেন। রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুমৃত্যুর মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত আরও আটচল্লিশ ঘণ্টা সময় প্রদান করা হয়েছে।
আইনি কোনো ফাঁকফোকর বা জটিলতা এড়াতেই এই বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মঙ্গলবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দাখিল করার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তদন্তে যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিন্দুমাত্র আইনি গাফিলতি বা অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থ সুরক্ষায় সরকার নিজ অবস্থান থেকে এক বিন্দুও পিছপা হবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন।
ক্ষতিপূরণের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলেও, সরকার আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অবিচল থাকবে। একই অনুষ্ঠানে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো এবং আক্রান্তদের যথাসময়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
দেশের বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য খাতের সার্বিক পুনর্গঠনে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। দেশের সম্ভাবনাময় ঔষধ শিল্পের আরও প্রসারে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের দোরগোড়ায় সঠিক মানের ওষুধ, ন্যায্য মূল্যে অথবা ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।